জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল জন্ম তারিখের জেরে ভোগান্তিতে সত্তরোর্ধ্ব দম্পতি

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ভুলের কারণে নানা বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব এক দম্পতি ও তাদের এক ছেলে। পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ অনুযায়ী মোছলিম উদ্দীনের জন্ম ২৮ অক্টোবর ১৯৫৯। আর তার স্ত্রী মোছা. ছুরতন বেগমের জন্ম ২৪ এপ্রিল ১৯৬২ সাল। তাদের মূল বয়স এর থেকে অনেক বেশি হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের ‘ভুল জন্ম তারিখে’র কারণে বয়স্কভাতাসহ নানান সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বয়স সংশোধনের নানান শর্তের বেড়া জালে তারা বয়স সংশোধনও করতে পারেননি। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বড় ছেলের জন্ম তারিখ ১ জুন ১৯৬৩। সেই হিসেবে বড় ছেলে মো. সোবহানের চেয়ে মাত্র ১০ মাসের বড় মা! আর ছেলের চেয়ে মাত্র চার বছরের বড় বাবা মোসলেম উদ্দিন।

অন্যদিকে ছেলের প্রকৃত বয়সের চেয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স বেশি দেখানো হয়েছে। তিনিও পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়। বাবা-মা ও সন্তানের বয়সের এমন অসংগতির খবর দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও আইনি জটিলতায় জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স সংশোধন করতে পারছেন না এই দম্পতি। উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে তাদের কাছে বিয়ের কাবিননামা কিংবা যে কোনো ধরনের প্রমাণপত্র চাওয়া হলেও তাদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মোসলেম-ছুরতন দম্পতির বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বালাইট পূর্বপাড়া গ্রামে। মোছলিম উদ্দিন পেশায় এক ভিক্ষুক। স্ত্রীকে নিয়ে কালাই পৌরশহরের কলেজপাড়া মহল্লায় একটি কুঁড়েঘরে থাকেন। তাদের পাশের বাড়িতে বড় ছেলে মো. সোবহানও থাকেন। মোছলিম উদ্দীন বলেন, হামার আসল বয়স ৭৬ বছরেরও বেশি। সরকার মোক (আমাকে) কার্ড করে দিচে (দিয়েছে) সেটি মোর বয়স কমে দিচে। কার্ডত বয়স কম থাকার জন্য মুই (আমি) বয়স্ক ভাতার কার্ড পাওনি (পাইনি)। আবার কার্ডত হামার (আমার) বেটার বয়স (ছেলে) বেশি দিচে। কার্ডের হিসাবে মুই মোর বেটার চার বছরের বড়।

মোছা. ছুরতন বেগম বলেন, মুই (আমি) চোখে ঠিক মতো দেখি না। ভাতার কার্ড জন্নি (জন্য) মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে অনেক বার গেছু (গিয়েছিলাম)। ভোটের কার্ড দেখে বয়স হয়নি বলে হামাক (আমাকে) ভাতা কার্ড করে দেইনি। মোরা (আমরা) বয়স ঠিক করার জন্নি অফিসত গেছিনু (যাওয়া হয়ে ছিল), মোরকে (আমাদের) বিয়্যার (বিয়ের) কাবিন চাওছে (চাচ্ছেন)। একন মোরা বিয়্যার কুটে পামু (কোথায় পাবো)। তাই মোক ফেরত (ফিরিয়ে) দিচে (দিয়েছে)।

উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর আলী বলেন, মোছলিম উদ্দিন, ছুরতন বেগম ও সোবহান বয়স সংশোধনের জন্য ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পেতে আমার কাছে কখনো আসেনি। তাছাড়া বয়স সংশোধনের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিস আছে।

কালাই উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো.আবুল কালাম বলেন, আমি শুনেছি চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে তারা বেশি ঘোরাঘুরি করে ছিলেন। তারা কখনো বয়স সংশোধনের জন্য অফিসে আসেনি। যদি আসে তাহলে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে খুব দ্রুত বয়স সংশোধন করা হবে।