আমাকে জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই ------- আবদুল কাদের মির্জা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমাকে জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমাকে ধমক দিয়ে লাভ নেই। আমি ’৮২ সাল থেকে রাজনীতির জন্য জেল খেটে খেটে তিতা হয়ে গেছি। আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আপনারা (জনগণ) আমার বড় সম্পদ, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ কিছু করতে পারবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র হোক, আমি বঙ্গবন্ধুর কথা বলব, শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলব, ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের কথা বলব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পৌরসভা নির্বাচনের পথসভা ও প্রচারাভিযানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম চিকিত্সার জন্য। ডাক্তার পরীক্ষানিরীক্ষা করে আমার পেটের মধ্যে দুটি টিউমার পায়। মনে করেছিলাম সেখানে আমার জীবনাবসান হবে। টিউমারের মধ্যে ক্যানসারের কোনো জীবাণু ছিল না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে গেছি। চিকিত্সা শেষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে আমার এলাকার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমি বলেছিলাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যত দিন বাঁচিয়ে রাখবেন, তত দিন সাহস করে সত্য কথা বলব। নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি করে এক এমপি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমি এসবের প্রতিবাদ করলে বলে, আমি নাকি খারাপ, আমাকে প্রথম আলোর সাংবাদিক ধমকায়, আপনার আয়ের উত্স কী? আমাকে সম্পত্তির হিসাব দিতে বলে। আমার সম্পদ হলো আমার এলাকার জনগণ।’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ খুবই অসুস্থ। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। ওনার ওপেনহার্ট সার্জারি করা হয়েছে, তিনিও অসুস্থ। নাছের সাহেব ক্যানসারে আক্রান্ত। এই তিন নেতা মরে গেলে, বৃহত্তর নোয়াখালীতে এত বড় মাপের নেতা পাওয়া যাবে না। আমি এসব কথা বলতে গেলে তারা বলে, আমি নাকি খারাপ।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সিনিয়র সহসভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আজম পাশা চৌধুরী রুমেলসহ নেতাকর্মীরা।

আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, ‘আমাদের কিছু আমলা নেতা, দুর্নীতিবাজ নেতা আছে; প্রধানমন্ত্রী ফল চাইলে তারা গাছসহ দিয়ে দেয়, তাদের রুখতে হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। জনগণ ধানের শীষে ভোট দিলেও আমার কোনো আপত্তি নেই, আমি দুই-চারটা ভোট পেলেও এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমার প্রতিপক্ষ নির্বাচিত হলে আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টি খাইয়ে বাড়ি চলে যাব। পরদিন ঘুম থেকে উঠে আমার রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাব।’ 

পরে গতকাল দুপুরে তিনি তার পৌরসভা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, এই নির্বাচন আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।

আবদুল কাদের মির্জা গতকাল বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজগেট, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেটে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালান।