মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বুধবার কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পর খোদ তার মন্ত্রিসভার মধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব কিনা তা নিয়েও সংশয় আছে। যদিও দ্রুত এই কাজ শেষ করারও চিন্তা আছে দেশটির বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক এবং ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অনেকের মধ্যে। খবর সিএনএন ও আলজাজিরার
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উসকানিতেই ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরেই ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরা আলোচনায় বসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও। এবিসি নিউজ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা চাক শ্যুমার ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের একদিন ক্ষমতায় থাকাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম কিনজিংম্যান বলেছেন, ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য উত্তম। জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকেও একই দাবি তোলা হয়েছে, ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে প্রসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটি মাইক পেন্সকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্পকে সরাতে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। চিঠিতে তারা লিখেছেন, হামলা চালিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণতন্ত্রের অবমাননা করেছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও মিয়ামি হেরাল্ড পত্রিকার সম্পাদকীয়তেও ট্রাম্পকে এখনি সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজার কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী বৃহত্ ব্যবসায়িক সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফেকচারার্স এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে। এক্সন মবিল করপোরেশন, ফাইজার ও টয়োটার মতো বৃহত্ প্রতিষ্ঠানগুলো এ সংগঠনটির আওতাভুক্ত। এছাড়া দ্য বিজনেস রাউন্ড টেবিল ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ ঘোষণা করে তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পোল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদেক সিকোরস্কি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টে ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান।
২৫তম সংশোধনীতে যা আছে
মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে বিবেচনা করে তাহলে তাকে সরিয়ে দিতে পারবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই সংশোধনী প্রয়োগ করা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকে সরিয়ে দিতে মন্ত্রিসভায় ভোটাভুটির নেতৃত্ব দেবেন। মার্কিন সংবিধানের এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি তার কার্যক্রম পরিচালনায় অসমর্থ বিবেচিত হন, তবে নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যায়। তবে এ জন্য কেবিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সেরও সম্মতির দরকার হবে। তারা কংগ্রেসের কাছে এই মর্মে চিঠি লিখবেন যে পেন্স ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হবেন। কারণ ট্রাম্প এ দায়িত্ব পালনে অসমর্থ। মার্কিন সংবিধানে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৬৭ সালে। তবে এর প্রয়োগ এ যাবত্ হয়নি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের কাছে এমন কোনো আবেদনও এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি। যদিও ট্রাম্পকে এত দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব নয়। কারণ এতে অনেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।