ব্যাটে-বলে মিললে এ বছরই সিনেমা বানাবো :অমি

বছরের শুরুর দিন নতুন নাটক প্রচার করার কোনো বিশেষ কারণ আছে কী?

বিগত ৩ বছর ধরে আমার পরিকল্পনা থাকে বছর শুরুর দিনই আমার নতুন কাজ প্রচার করার। যেমন গতবছর প্রচার হয় আমার নির্মিত নাটক ‘মরিচীকা’ এবং এ বছর ‘হ্যালো বেবি’। আর এই কাজগুলোতে বিনোদনের পাশাপাশি নতুন কোনো বার্তা দিতে চাই। কারণ শুরুর দিন ভালো কাজ উপহার দিতে পারলে তা দর্শকরা সারাবছর মনে রাখে বা আলোচনা করে।

ব্যাচেলর পয়েন্ট দিয়ে আপনি আলোচনায়। নাটকটির জনপ্রিয়তা পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি-না?

বিষয়টিকে আমি আসলে সেভাবে দেখি না। সব কাজই আমি সমানভাবে শ্রম দিয়ে করি। এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত নেগেটিভ কিছু মনে আসেনি। তবে নতুন ধারাবাহিক নির্মাণ করতে এলে হয়তো এই চ্যালেঞ্জটা আমার ভেতর আসবে। কারণ তখন হয়তো মনে আসবে ব্যাচেলর পয়েন্টের মতো নতুন নাটকটি জনপ্রিয় হবে কি-না! দর্শকরা ব্যাচেলর পয়েন্টের মতো এই কাজটি গ্রহণ কবে কি-না! তাছাড়া তখন হয়তো অনেকে বলবেন ব্যাচেলর পয়েন্টের চেয়ে এটা ভালো বা খারাপ হয়েছে, এ ধরনের একটা মানসিক চাপ অবশ্য আমার মাঝে রয়েছে নাটকটি জনপ্রিয় হওয়ার কারণে। তবে গল্প যদি মানুষের আপন মনে হয় তবে অবশ্যই তারা সেই কাজটিও গ্রহণ করবেন।

নাটকটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও অনেকে নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন। এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

সব আর্টিস্ট বা তাদের কাজের ভালো খারাপ দুই আলোচনায়ই হয়। এটা থাকবেই। আসলে আমি মানুষের জীবনের গল্প বলি। এটা যার জীবনের সঙ্গে মিলে যায় সে ভালো বলে, আর যা সঙ্গে মেলে না সে খারাপভাবে নেয়। নেগেটিভ মন্তব্য করে। তাছাড়া এখন তো নেগেটিভ মন্তব্য করা সহজ। কারণ এটা করলে খুব সহজেই মানুষের চোখে পড়া যায়। যেটা ভালো কাজে খুব কঠিন। তবে এটাকে আমি পজেটিভলি নিই। তাছাড়া আমি সবসময় নেগেটিভ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।’

অনলাইন প্লাটফর্মে নিয়মের বেড়াজাল না থাকায় অনেক মানহীন নাটক নির্মাণ ও প্রচার হচ্ছে। আপনি একজন সফল নির্মাতা হিসেবে কী বলবেন?

আমি বলবো যারা এখানে ব্যবসা করতে আসে তারা এ ধরনের কাজ করে। আমরা যদি ব্যবসা করতে আসি তাহলে কিন্তু এই মানের চিন্তাটা মাথায় থাকবে না। ভাবনায় থাকবে মাস শেষে এত টাকা চাই, এর জন্য যা হোক একটা কিছু নির্মিত হলেই হলো। তবে এটাও সত্য এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কিন্তু দর্শকরা গ্রহণ করেনি। কিন্তু আপনি যদি সৃষ্টির বা সংস্কৃতি চর্চার জন্য আসেন তাহলে কিন্তু মানের বিষয়টি আগে মাথায় রাখবেন। তবে নিয়ম দিয়ে আসলে সংস্কৃতি চর্চাকে আটকানো ঠিক হবে না।

সম্প্রতি আপনি সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন? এটা কী নাটকের জনপ্রিয়তার কারণে?

বিষয়টি তেমন না। আসলে প্রথমে নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম সিনেমা, হয়ে গেলাম নাট্য নির্মাতা। মূলত সিনেমাই নির্মাণ করতে চাই। বলতে পারেন বর্তমান কাজগুলো করে সেই ক্ষুদাই কিছুটা নিবারণ করছি। তবে এখন মনে হচ্ছে আমার মাধ্যমটা পরিবর্তন করা উচিত। যদি ব্যাটে-বলে মিলে যায় তবে এ বছরই সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া ইচ্ছে আছে।

নাটকের সফলতার ধারা কী চলচ্চিত্রেও রাখতে পারবেন বলে মনে করেন?

আমি নাটকে যেমন শ্রম দিয়ে কাজ করেছি সিনেমাতে তার চেয়ে বেশি শ্রম দিয়ে করবো। তাছাড়া এখন অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করি, তখন তো শুধু একটি সিনেমা নিয়ে অনেকদিন কাজ করবো। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় কাজটি আরো বেশি ভালো হবে।

নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে প্রধান্য দেন?

আমি মূলত দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিই। প্রথমত, আমি যে বিষয়টি চোখে দেখি, আশেপাশে কোন ঘটনা ঘটেছে বা ঘটতে পারে এমন বিষয়। দ্বিতীয়ত, আমি স্মার্টনেসটা খুব পছন্দ করি। তাই আমি চাই আমার কাজে ভেতর সেই ধারাটা অব্যাহত থাকুক।