স্মিথের স্বরূপে ফেরার দিন

স্পোর্টস ডেস্ক

সেঞ্চুরি পেলেই হাসিমুখে স্টিভেন স্মিথের আগ্রাসি উল্লাসটা বেশ পরিচিত। টানা ১৪ ইনিংস পর গতকাল সিডনিতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু মুখে হাসি ছিল না। উদ্যাপনের ভঙ্গিমায় উগড়ে দিলেন সমালোচকের প্রতি জমা ক্ষোভগুলো।

এক সেঞ্চুরির মধ্যে স্মিথ বুঝিয়ে দিলেন রান খরা ও ফর্মহীনতার পার্থক্য, ‘অনেক জায়গায় বলা হয়েছে আমি ফর্মে ছিলাম না। তাই তাদের ভাষায় ফর্মে ফিরে এসে ভালো লাগছে। তিন-চার সপ্তাহ আগে এই মাঠেই দুটো সেঞ্চুরি করেছি। এর মধ্যে কেউ ফর্মহীনতার কথা বললে সত্যিই হাসি পায়।’

স্মিথের ১৩১ রানে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথমবার ৩০০-এর দেখা পেলেও তর্কসাপেক্ষে সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি ছিল ভারতের। স্বাগতিকদের ৩৩৮ রানে গুটিয়ে ভালোই জবাব দিচ্ছে সফরকারীরা। দিন শেষে ২৪২ রানে পিছিয়ে থেকে তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৬ রান।

ভারতের অনবদ্য পারফরম্যান্সের পরও স্মিথ বন্দনায় মুখরিত হলে অপরাধ হবে না। ম্যাচের প্রথম দিনেই স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। আগের দুই টেস্টের ব্যর্থতা ভুলে শুরু থেকেই চড়াও হতে থাকেন বোলারদের ওপর। তাকে উল্লেখযোগ্য সঙ্গ দেন মার্নাস লাবুশেন (৯১)। ১০০ রানের জুটি ভেঙে লাবুশেন ফিরে গেলে স্মিথকে লড়াই করতে হয় একাই।

বোলারদের অসফলতায় শেষমেশ স্মিথের পতন ঘটে রান আউটে। স্কয়ার লেগ থেকে রবীন্দ্র জাদেজার ক্যারিয়ার ‘সেরা’ থ্রোতে দলের শেষ ব্যাটম্যান হিসেবে মাঠ ছাড়েন তিনি। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জাদেজাই।

বিকালের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভালোই জবাব দিচ্ছে ভারত। তবে রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলকে হারানোর আক্ষেপও আছে। উদ্বোধনী জুটিতে ৭০ রান এনে দেন তারা। তখন মনে হচ্ছিল নির্বিঘ্নেই দিন শেষ করবে ভারত। জশ হ্যাজলউডকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সেই ভুল ভাঙিয়ে দেন রোহিত (২৬)। আর ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পাওয়া গিল ফেরেন ৫০ রানেই। দিনের শেষ সময়টা নিরাপদে কাটান চেতেশ্বর পুজারা (৯) ও অজিঙ্কা রাহানে (৫)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ১০৫.৪ ওভারে ৩৩৮ (লাবুশেন ৯১, স্মিথ ১৩১, স্টার্ক ২৪, বুমরাহ ৬৬-২, সাইনি ৬৫-২, জাদেজা ৬২-৪)।

ভারত ১ম ইনিংস : ৪৫ ওভারে ৯৬/২ (রোহিত ২৬, গিল ৫০, পুজারা ৯*, রাহানে ৫*, হ্যাজলউড ২৩-১, কামিন্স ১৯-১)।