স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল ধর্ষক দিহান

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ফারদিন ইফতেখার দিহান (২০)। গতকাল দুপুরে কলাবাগান থানা পুলিশ তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করলে সে জবানবন্দি দেয়।

দিহান জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঐ শিক্ষার্থী কলাবাগানের লেক সার্কাসে তাদের ফ্ল্যাটে আসে। ফ্ল্যাটের মালিক দিহানের বাবা আব্দুর রউফ সরকার। করোনার মধ্যে রউফ রাজশাহীর দুর্গাপুরে তার বড় ছেলের বাড়িতে চলে যান। অন্যদিকে, দিহানের মেজো ভাই নারায়ণগঞ্জে যুমনা ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনিও বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। দিহানের মা সানজিদা সরকার তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে একই দিন সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। বাসায় কেউ ছিল না বলে দিহান নিজেই ঐ শিক্ষার্থীকে ফোন করে আসতে বলে। বেলা ১২টার দিকে মেয়েটি তাদের বাসায় এলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে সে তাকে ধর্ষণ করে। দিহান জানায়, ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সে ভয় পেয়ে যায়। প্রায় ২০/২৫ মিনিট ধরে তারা নিজেরাই রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এক পর্যায়ে ঐ ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন দিহান বাসার নিচে গিয়ে পার্কিং থেকে নিজের গাড়িটি বের করে। দোতালা থেকে তাকে ধরাধরি করে নামিয়ে এনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় মডার্ন আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিত্সকরা জানান,  আগেই সে মারা গেছে। তখন দিহান তার বন্ধু হুমায়িদ মিল্কি, আলভী মাহবুবসহ তিন জনকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে। এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়।

দিহান আরো জানিয়েছে, ঐ শিক্ষার্থী ছাড়াও তার সঙ্গে আরো এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের মেলামেশা রয়েছে। শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় ঐ শিক্ষার্থী যে মারা যাবে—সেটি সে কল্পনা করতে পারেনি। শারীরিক সম্পর্ক করার পরিকল্পনা থেকেই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ঐ শিক্ষার্থীর কাছে সে ফোন দেয় বাসায় আসার জন্য। সে তাতে সাড়া দিয়ে চলে আসে। জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত দিহানকে ঢাকা কেন্দ ীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধর্ষণের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ :গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।’ এর আগে বয়স নির্ধারণের জন্য মরদেহের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

মামলা দায়ের :বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় দিহানকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় দিহানের গাড়িটি জব্দ করেছে। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ লেক সার্কাসে আব্দুর রউফ সরকারের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি আলামত জব্দ করে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগানের লেক সাকার্সের ফ্ল্যাট থেকে অচেতন অবস্থায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ঐ শিক্ষার্থীকে মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন।