পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ ও পাচারের অভিযোগে কানাডায় পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে) বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল। বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে তার বিরুদ্ধে এ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত  করেছেন পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক  (এআইজি) সোহেল রানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে। আবেদনটি ইন্টারপোলের বিশেষ কমিটি পর্যালোচনা করে। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই রেড নোটিশ জারি বহাল থাকবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের যে শাখা (এনসিবি) রয়েছে সেসব দেশে এই রেড নোটিশটি এরই মধ্যে প্রেরণ করেছে ইন্টারপোল।

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিংসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পি কে হালদার। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তিনি আত্মসাত্ ও পাচার করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অর্থ নিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন কানাডায়। সেখানে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খুুলেছেন কোম্পানি।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে দুদক কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছিল হাইকোর্ট। এরপরই দুদকের আবেদনে দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত আদালতের আদেশ, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতি মামলার নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশের এনসিবি শাখা থেকে ইন্টারপোলের সদর দপ্তর ফ্রান্সের লিয়নে পাঠানো হয়।

ইন্টারপোলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে রেড নোটিশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর আত্মসমর্পণ বা অনুরূপ আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ও গ্রেফতারের অনুরোধ। এ নোটিশ মূলত দুই ধরনের তথ্য বহন করে। এক. ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য তার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয়তা, চুল ও চোখের রং, ফটোগ্রাফ ও আঙুলের ছাপ। দুই, ব্যক্তি যে অপরাধের জন্য পলাতক, সে সম্পর্কিত তথ্য, যা সাধারণত হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বা সশস্ত্র ডাকাতি হতে পারে। রেড নোটিশ সদস্য দেশের অনুরোধে ইন্টারপোল দ্বারা প্রকাশিত হয়।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ ও পাচারে পি কে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ নাগরিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। এর আগে গত বছরের শুরুর দিকে পি কে হালদার ও তার স্বজনসহ ১৯ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয় উচ্চ আদালত। পি কে হালদারসহ মোট ৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে।