গত ১৫ নভেম্বর পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরের গিলগিট-বালতিস্তানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে পাকিস্তান ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জয় পাওয়ার পর তাদের উপনিবেশবাদী অত্যাচার বেড়েই চলছে।
পাকিস্তান সরকারের অত্যাচার বুঝানোর জন্য দুটি ঘটনার উল্লেখ করা জরুরি। এর মধ্যে প্রথমটি হলো গিলগিট-বালতিস্তানকে অস্থায়ী প্রদেশের মর্যাদা দেওয়ার জন্য যে কমিটি করা হয়েছে সেখানে প্রধান বানানো হয়েছে রাজনীতিবীদ আকি আমিন গান্দাপুরকে। তিনি নির্বাচনের গিলগিট-বালতিস্তানের জনগণকে আশ্বাস দিয়েছেন যে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পিটিআই ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের জন্য ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে ক্ষমতায় আসার পরই পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল গিলগিট-বালতিস্তানের ১০০ জন সরকারি কর্মীকে বরখাস্ত করেছে।
গিলগিট-বালতিস্তানে ডায়ামার-ভাশা বাঁধ প্রকল্পের কাজটি স্থানীয়দের মাধ্যমে করানোর কথা থাকলেই সেটি এখন পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার কোম্পানি দ্বারা করানো হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি বালতিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
গিলগিট-বালতিস্তানকে পাকিস্তানের প্রদেশ বানাতে চাওয়া জাতিসংঘের রেজুলেশনের পরিপন্থী। জাতিসংঘের রেজুলেশনে অনুযায়ী গিলগিট-বালতিস্তান নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত সকল পাকিস্তানের সেনা এবং বহিরাগত বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান হয়েছিল।
সম্প্রতি গিলগিট বালতিস্তানে পাকিস্তানে সরকার প্যারা মিলিটারি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। এটি পাকিস্তান সরকারের অত্যাচারের আরেকটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আগামী তিন বছর দখলকৃত গিলগিট-বালতিস্তানে থাকবে পাকিস্তানের প্যারা মিলিটারি বাহিনী। এই সব প্যারা মিলিটারি বাহিনী গিলগিট-বালতিস্তানের পার্ক,রাস্তা এবং বিভিন্ন সড়কে মোতায়েন করা হবে। আর এর মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার উপনিবেশবাদ অত্যাচারকে আরো গভীর করছে।
গিলগিট-বালতিস্তানে পাকিস্তান সরকারের উন্নয়ন স্থানীয়নের জন্য এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গিলিগিট শহরে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টার লোড শেডিং হয়। এ ছাড়া আস্টোরে জেলার ১ হাজার ৫০০ বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎই পৌঁছায়নি।
এছাড়া গিলগিট- বালতিস্তানের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসকও পাওয়া যায় না। কোনো হাসপাতালেই করোনা রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা নেই। সামান্য অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশন করার মতো চিকিৎসকও নেই গিলগিট-বালতিস্তানে।
লোড শেডিং, ট্যাক্স কমানোসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ গিলগিট-বালতিস্তানের এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপারার। এমন পরিস্থিতিতে শুধু মাত্র বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদই পারে ভারত থেকে দখলকৃত এই অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য।
ড. আমজাদ আইয়ুব মির্জা, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মী
ইত্তেফাক/এআর