শিশুর উত্সুক ও অনুসন্ধিত্সু মন সৃষ্টির সহায়ক দায়িত্বটি পালন করে থাকেন শিক্ষক

 

ছিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষানুরাগী

 

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রাথমিক শিক্ষা হলো সকল শিক্ষার মূলভিত্তি। শিশুর কোমলমতি কচি মনে জ্ঞান অন্বেষণের প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং তাকে উন্নত জীবন দর্শনে উদ্ধুদ্ধ করার মূল ক্ষেত্র হলো প্রাথমিক স্তর। শিশু বেড়ে উঠার পাশাপাশি যাতে করে জ্ঞান সাধনার অনুপ্রেরণা পায়, সেই জন্য দরকার তার ইতিবাচক মনস্তাত্বিক পরিবর্তন। শিশুর উত্সুক ও অনুসন্ধিত্সু মন সৃষ্টির সহায়ক দায়িত্বটি পালন করে থাকেন শিক্ষকগণ। আধুনিক সভ্যতার অবারিত সুযোগ সুবিধার বদান্যতায় আজকাল অধিকাংশ শিশুর মানসিক বিকাশের কাজটি প্রাথমিক স্তরেই প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। শিক্ষক প্রহার করলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি; শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রেম সংক্রান্ত আবেগিক চিরকুট চালাচালি ইত্যাদি ঘটনা প্রমাণ করে যে তারা প্রাথমিক স্তরেই অনেকটাই পরিণত। শিশুদের ভিশন মিশন কী হবে বা কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণের সহায়তা প্রদানে দরকার অতি উচ্চ মার্গের চেতনা সম্পন্ন শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি। তাই সঙ্গত কারণেই দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী জনগোষ্ঠিকে এখানে নিয়োজিত করা দরকার। কয়েকদিন আগেও এই ধারণাটি বদ্ধমূল ছিল যে প্রাথমিক স্তরের সিলেবাস পড়ানোর জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পাশধারী শিক্ষক হলেই যথেষ্ট। অনার্সসহ মাস্টার্স বা তার সমমান ডিগ্রিধারীদের প্রয়োজন তেমন নেই। দেরিতে হলেও প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা উন্নিত করা হয়েছে যদিও তা যথেষ্ট নয়। কারণ সিলেবাস শেষ করা আর জাতির ভবিষ্যত বিনির্মাণের ভিত্তি গড়া যদি একই সমান্তরালে বা মোটা দাগে চিন্তা করা হয় তাহলে তা হবে আত্মঘাতী। আজ সমাজে যে রকম ইভটিজার, বখাটেদের দৌরাত্ম ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার দায়ভার অনেকটা সিলেবাস সর্বস্ব যান্ত্রিক পড়াশুনাকেই নিতে হবে। সহজ সরল সিলেবাসের মধ্যে যে অন্তর্নিহিত ভাব, চেতনা, নীতিবোধ ও দেশপ্রেম সুপ্ত অবস্থায় আছে তা খোঁজে শিশুর কচি মনকে নাড়িয়ে দেয়া বা অনুসন্ধিত্সু করার কৌশল বা ক্ষমতা কেবল দার্শনিক বোধ ও উচ্চ চেতনা সম্পন্ন শিক্ষিত জনশক্তির পক্ষেই সম্ভব। স্থুল চেতনা ও স্বল্প জ্ঞান সম্পন্ন চাকুরীজীবী শিক্ষকের কাছ থেকে তা প্রত্যাশা করা বাতুলতার নামান্তর। জাতির ভিশন যদি অটুট থাকে তাহলে প্রাথমিক স্তর নিয়ে এত অবহেলা কেন? উন্নত বিশ্বের সর্বোচ্চ মেধাবীরা বেছে নেয় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের পেশাকে। অথচ বাংলাদেশে তার উলেটা চিত্র। আমাদের নীতি নির্ধারকরা বিদেশে সফর করে বিলেতি কিছু ধ্যান ধারণা  বাস্তবায়নের জন্য প্রায় মেধাহীন জনগোষ্ঠির উপর চড়াও হন- যা অনিবার্যভাবে কিছুদিনের মধ্যেই ব্যর্থ ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে- উন্নত বিশ্বে জনবলের সংকটের কারণে তারা বিকল্প প্রযুক্তির উদ্ভাস ঘটিয়ে জনবলের অভাব পূরণ করে সফলতা পাচ্ছে- এটা তাদের দেশের প্রেক্ষাপট।

কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট তো ভিন্ন। আমাদের আছে বিশাল জনশক্তি। এখন যদি নীতি নির্ধারকেরা বিদেশী ধারণা “Make It Short” - এ উজ্জীবিত হয়ে জনবল ছাঁটাই বা জনবল

আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে, তাহলে তো এ জনশক্তি জাতির বোঝায় পরিণত হবে।