গত ১০০ বছরে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় দেড়গুণেরও বেশি বেড়েছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, ঢাকা শহর হচ্ছে উত্তপ্ত এবং পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন। গাছপালা কেটে ফেলা, জলাশয় ভরাট, যানবাহন ও কংক্রিটের স্থাপনা হুহু করে বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। সেজন্য ঢাকা মহানগরীর বাসাবাড়ি, ফ্ল্যাট বা ভবনের ছাদে শুধু ফুলের বাগান নয়, ফলের বাগান কার্যক্রমকে বাধ্যতামূলক করতে এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও রাজউক সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন নগরীতে তাপমাত্রা কমানোর জন্য ভবনের নকশা অনুমাদনের জন্য ছাদে বাগান স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাপানের রাজধানী টোকিওর মেট্রোপলিটন সরকার টোকিও সিটির ভবনগুলোর ছাদে ন্যূনতম ২০ শতাংশ জায়গায় বাগান কার্যক্রমকে বাধ্যতামূলক করে ২০০১ সালে আইন পাস করে। যার ফলে টোকিও সিটির গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হ্রাস পেয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার আসাদগেটের ফলবীথি হটিকালচার সেন্টারে সাংবাদিকদের জন্য রুফ গার্ডেনিং ওরিয়েন্টশন কোর্সে বক্তারা পরিবেশ রক্ষার জন্য ঢাকা শহরের বাসাবাড়ির ছাদে ফলের বাগান কার্যক্রমকে জনপ্রিয় করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ছাদে বাগান কর্মসূচি সফলতার জন্য রাজউক ও রিহ্যাব যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে এখন রাস্তার ফুটপাতগুলোকে সবুজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাদে শুধু বাগান নয়, চৌবাচ্চা করে মাছও চাষ করা যেতে পারে। ছাদে বাগান কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নগরবাসীর। কৃষিবিদরা বলছেন, ছাদগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করে দেশের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ফলের চাষাবাদ করাই শ্রেয়। এতে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়া সহজতর। এছাড়াও নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাগান কর্মসূচিকে উত্সাহিত করা উচিত।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী