মাঠ পর্যায়ে ১৪০০ কোটি টাকা বকেয়া :সঠিক নীতিমালা দাবি

ইডকলের সৌর বিদ্যুত্প্রকল্প

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ইডকলের অংশীদার সংস্থাগুলোর কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া দাঁড়িয়েছে। এসব অর্থ মওকুফে সুষ্ঠু নীতিমালা এবং সৌরবিদ্যুত্ প্রকল্প অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থায়নকারী সংস্থা ইডকল এবং এর সহযোগী হিসেবে বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা দীর্ঘদিন যাবত্ দেশে সৌর বিদ্যুত্ সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইডকলের পার্টনার অরগানাইজেশন ( (পিও) হিসাবে পরিচিত এ সব বেসরকারি সংস্থা গত ১৫ বছরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে প্রায় ৫৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছে। ইডকল সোলার হোম সিস্টেম নামে পরিচিত এই কর্মসূচি একক বৃহত্তম কর্মসূচি হিসেবে সারা পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করে।

সূত্র জানায়, মূলত একটি ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব সমঝোতার আওতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছিল। এক্ষেত্রে কোনো গ্রাহক সোলার হোম সিস্টেম বসাতে চাইলে ইডকল ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৭০ ভাগ খরচ বহন করত এবং বাকি ৩০ ভাগ খরচ প্রদান করত পিও এবং গ্রাহক। সোলার হোম সিস্টেম চালু হওয়ার পর গ্রাহক মাসিক কিস্তির মাধ্যমে তার ঋণ পরিশোধ করত। পিওগুলো ইডকলের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মূলত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করত। ফলে বেসরকারি পিওগুলো ঋণের কিস্তি উঠিয়ে তা ইডকলকে ফেরত দিত। এভাবেই এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৫৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ। কিন্তু ২০১৫ সালে পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) গ্রিড লাইন সম্প্রসারণ শুরু করলে এই কর্মসূচি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়। গ্রিডের বিদ্যুত্ সংযোগ পেয়ে গ্রাহকরা সোলার হোম সিস্টেমের কিস্তি প্রদান বন্ধ করে দেয় এবং তাদের সিস্টেম খুলে ফেলে। এর ফলে বিপর্যয়ে পড়ে এই পিওগুলো। তারা মাঠ পর্যায়ের ঋণ আদায় করতে না পেরে ইডকলের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় এবং খেলাপি হয়ে পড়ে। এভাবে মাঠ পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে। ইডকল এ ঋণ মওকুফের জন্য সম্প্রতি একটি নীতিমালা প্রস্তুত করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত যাতে কেউ বৈষম্যের শিকার না হয় এবং সৌরবিদ্যুত্ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।