কমলগঞ্জে কমছে আবাদি জমি

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

কমলগঞ্জে ফসলি জমি ভরাট করে বসতঘর, রাস্তাঘাট, দালানকোঠা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে যত্রতত্র নানা রকম স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে খাদ্য উত্পাদন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয় সচেতন মহল। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে প্রতি বছর দশমিক ২৫ শতাংশ বা ৪৫ হেক্টর পরিমাণ কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। কমলগঞ্জে মোট কৃষি জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৩৫২ হেক্টর। এর মধ্যে ফসলি জমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭২৮ হেক্টর। আবাদি জমির মধ্যে স্থায়ী বন ৮ হাজার ২১৭ হেক্টর, চা-বাগান ৯ হাজার ৮৩৩ হেক্টর, এক ফসলি জমির পরিমাণ ৫ হাজার ১৬১ হেক্টর, দুই ফসলি জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৫০১ হেক্টর, তিন ফসলি জমির পরিমাণ ২ হাজার ৮৫৫ হেক্টর।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ফসলি জমির আশপাশে বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ ইটভাটা নির্মাণের কারণে চাষাবাদের জমি দিনে দিনে কমছে। স্থানীয় বাসিন্দা তোয়াবুর রহমান, ডা. শহীদ সাগ্নিক, সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফসল উত্পাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়া। কয়েক বছর আগেও কৃষিজমির পরিমাণ যা ছিল; আবাসনের চাহিদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নদীভাঙনে অনেকটা কমে গেছে। তারা আরো বলেন, বন্যা, খরা,  অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যের ঘাটতি ও পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে কৃষি উত্পাদন হচ্ছে এই উপজেলায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল দেব বলেন, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাসীদের আয়ের একটি বড় অংশ বাসাবাড়ি, দালান, অট্রালিকা নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে। এদের ৭৫ ভাগই রাস্তার ধারের কৃষিজমি।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, আসলে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ার কারণে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ রোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, কৃষিজমি ভরাটের এই চিত্র দেশ জুড়েই চলছে। ফসলি জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় চলে গেলে জমিতে ফসল উত্পাদনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। এসব বিষয়ে সংবাদ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।