মেহেরপুরে খোলাবাজারে শিল্পলবণ!
মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা লবন খোলাবাজারে ভোজ্যলবণ হিসেবে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এ শিল্পলবণ স্থানীয় একটি অসাধু চক্র বস্তা ভর্তি করে ফেরি করে বিক্রি করছে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেরপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি চামড়া প্রক্রিয়া করার ঘর থেকে এসব শিল্পলবণ বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তাপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকায় মিলছে এই লবণ। কিনছে বিভিন্ন হকার। কম দামে লবণ পেয়ে অনেকটা অজ্ঞতা থেকে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষরা কিনছেন এই লবণ। নিজেও খাচ্ছেন আবার কোনো কোনো সময় গবাদি পশুকেও খাওয়াচ্ছেন। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আব্দুল ওহাবের চামড়ার ঘরে কর্মরত সুধীর দাস নামের এক শ্রমিক জানান, এই লবণ প্রতিদিনই বিক্রি করি। ৫০ কেজির দাম ৪৮০ টাকা ও ৬০ কেজির দাম ৫৮০ টাকা। কী কাজে ব্যবহূত হয়—জানতে চাইলে আরেক কর্মচারী বাবু জানান, বিভিন্ন ভ্যানচালকরা কিনে নিয়ে যান। এটা মানুষ খায়, আবার আপনি চাইলে গরুকেও খাওয়াতে পারবেন। লবণে আয়োডিন আছে কি না, জানতে চাইলে দুজনেই বলেন—আমরা জানি না। এ ব্যাপারে আব্দুল ওহাব জানান, ৫০ কেজির বস্তা ৪৮০ টাকা ও ৬০ কেজির বস্তা ৫৮০ টাকায় বিক্রি করছি। বিক্রি করার কোনো অনুমোদন আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মকলেছুর রহমান জানান, আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়, যাতে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলা ফুলে যায়। এতে বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। আয়োডিনের অভাবে গর্ভবতীদের গর্ভস্রাবেরও ঝুঁকি থাকে। মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল আলম বলেন, এইভাবে আয়োডিনবিহীন লবণ মানুষ বা গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য বিক্রি করা অপরাধ। এটা মানুষের শরীরে জন্য ক্ষতিকর। আমরা বিষয়টি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।