অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

নগরীর বিভিন্ন অলিগলি ছেয়ে গেছে নির্বাচনি পোস্টার ও ব্যানারে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা ভোটারদের নানা ধরনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

গতকাল শনিবার চসিক নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণা চালিয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনি গণসংযোগের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থীরা দলের অঙ্গসংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল সকালে ফিরিঙ্গীবাজার ফিসারিঘাটে মত্স্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু করেন। এর পর দুপুরে মিউনিসিপ্যাল স্কুল মাঠে মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বেসিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, জাতীয় শ্রমিক লীগ সহসভাপতি শফর আলী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর।

নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘মেয়র নির্বাচিত হয়ে আমি চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব, ব্যবসা অনুকূল, নারীবান্ধব, শিশুর বিকাশ উপযোগী, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, পর্যটনবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়তে চাই।’

এদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন দিনভর নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন। গতকাল সকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে মাস্ক বিতরণ ও মতবিনিময় সভা শেষে নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তিনি ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড, ২৬ নম্বর, দক্ষিণ হালিশহর এলাকয় গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগকালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এ বন্দর চট্টগ্রামে হলেও এর আশপাশের এলাকার যাদের ভূমি অধিগ্রহণ করে বন্দর গড়ে উঠেছে, ঐসব এলাকার মানুষ বন্দরে চাকরি পায় না। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২ হাজার পদ খালি রয়েছে। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বন্দর এলাকার মানুষকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, পতেঙ্গা সৈকত হলেও তেমন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পর্যটকদের জন্য আরো দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে গড়ে তুলব।’

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু সুফিয়ান, নগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, জামাল আহমেদ, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, মো. ইদ্রিস আলী, মো. ইসমাইল, মাহমুদ আলম পান্না, মোশারফ হোসেন দিপ্তী, কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. নুরুল আবছার প্রমুখ।­