আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির চলমান ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ আজ আলোয় ঝলমল করছে। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে তরুণদের কর্মদক্ষতা ও কর্মপরিকল্পনা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ এদেশের উন্নয়ন এবং ইমেজকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে সে বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপকমিটি এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’ যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করে। সেতুমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এদিকে ওবায়দুল কাদের গতকাল তার ফেসবুক পাতায় একটি স্টাটাসে লিখেছেন, ‘দেয়ার ইজ নো পিস উইদাউট পেইন।’ অর্থাত্ যন্ত্রণা ছাড়া শান্তি নেই।
কর্মশালায় ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, জাতি আজ লোডশেডিংয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সেবা খাত। বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সুযোগ-সুবিধা এখন বিশ্বমানের। ছাত্র রাজনীতিকে সুনাম ও ঐতিহ্যের ধারায় ফিরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যারা এখনো তরুণদের পেট্রোল বোমা, আগুন সন্ত্রাস ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার পথে ঠেলে দিচ্ছে, তাদেরকে এসব নেতিবাচকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তরুণ প্রজন্ম আজ মাদক, সাইবার অপরাধ, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকসহ নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণ-তরুণীদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এবং ক্যারিয়ার গড়তে প্রতিটি পরিবারের পাশে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। তারুণ্যের শক্তিকে রাষ্ট্র নির্মাণে কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মেধাবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। চরিত্রবানরা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতি চরিত্রহীনদের হাতে চলে যাবে। তিনি আরো বলেন, বছরের পর বছর আদু ভাই থেকে ছাত্রনেতা হওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। আর এ ধারা বন্ধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে দেশে নীরবে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটে চলছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের একদিকে আন্তর্জাতিকমানের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে। অপরদিকে নেতিবাচক দিক থেকে তরুণদের সুরক্ষা দিতে হবে।’
শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন সিআরআইর কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ।