নন্দীগ্রামে তৈরি হচ্ছে কুমড়োর বড়ি

নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তৈরি হচ্ছে কুমড়োর বড়ি। ফলে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কুমড়োর বড়ি তৈরির কারিগররা। তাদের তৈরি এসব বড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, চাটাইয়ের ওপর সারি করে বিছানো সাদা মাষকালাইয়ের তৈরি কুমড়োর বড়ি। রোদে শুকানো হচ্ছে ঐ বড়িগুলো। 

জানা যায়, সারা বছর টুকটাক কুমড়োর বড়ি তৈরি হলেও শীতকালই কুমড়োর বড়ি তৈরির মৌসুম। আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন এই ছয় মাস কুমড়োর বড়ি তৈরি ও বিক্রি হয় ব্যাপকভাবে। সকাল থেকে বাড়ির উঠানসহ বিভিন্ন খোলা জায়গায় চলে কুমড়োর বড়ি তৈরির কাজ। বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে পুরুষ এবং ছোট-বড় ও বয়স্ক সবাই মিলে কুমড়োর বড়ি তৈরি করেন।

উপজেলার হাটধুমা গ্রামের অসিত কুমার জানান, বড়ি তৈরিতে প্রথমে মাষকালাই পানিতে ভিজিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে শিলনোড়া বা মেশিনে পেস্ট করা হয়। পরে তা ফেনিয়ে বড়ি বসাতে হয়। একাজে ঝামেলাও অনেক পোহাতে হয়। গৃহিণী সবিতা রানী জানান, মাষকালাই, চালকুমড়া, জিরা, কালোজিরা ও মৌরী মিশিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়।

এরপর বড়িগুলো দুই-তিন দিন ভালোভাবে রোদে শুকানোর পর বিক্রি করা হয়। বড়িকে শক্ত করার জন্য এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে আলো চালের আটা মেশানো হয়। 

ওমরপুর হাটে কুমড়ার বড়ি কিনতে আসা জিল্লুর রহমান জানান, বড়ি ভেঙে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচামরিচ দিয়ে ভাজি করলে চমত্কার খাবার তৈরি হয়। এছাড়া বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলু প্রভৃতি তরকারির স্বাদই আলাদা। 

কুমড়াবড়ি বিক্রেতা তছলিম উদ্দিন জানান, প্রতি কেজি বড়ি প্রস্তুতে প্রায় ১৬০ টাকা খরচ হয়। খুচরা এক কেজি বড়ি বিক্রি হয় ২০০ টাকা আর পাইকারি বিক্রি হয় ১৭০-১৮০ টাকায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ