নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে বুধবারের নজিরবিহীন সহিংসতার পর সারা দেশ যখন বিচলিত ও স্তম্ভিত, তখন গুরুতর কিছু প্রশ্ন উঠছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একেবারে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ভঙ্গের এত বড় ঘটনা কীভাবে ঘটল।

অনেকের কাছে এখনো বোধগম্য নয় যে, ট্রাম্পের কয়েক হাজার সমর্থক কীভাবে দেশটির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভবনের ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হলো।

সহিংসতার যেসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, সেগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উন্মত্ত সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলের ভেতরে ঢুকে সেখানে ঘুরে ঘুরে তাণ্ডব চালাতে সক্ষম হয়েছে। তারা ভবনের ভেতরে ভাঙচুর চালাচ্ছে, ছবি তুলছে, এমনকি অনেকে তাদের এই তাণ্ডবলীলা সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরাসরি সম্প্রচার করেছে। অনেকে ভবনের ভেতর থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে, যেগুলোকে মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টেলিভিশনে এবং অনলাইন মিডিয়াতে এই আক্রমণের খবর সারা বিশ্বে প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই সেখানে মোতায়েন থাকা ক্যাপিটল পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভবনটির নিরাপত্তার জন্যে সেখানে প্রায় ২ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী ক্যাপিটল পুলিশ মোতায়েন রাখা ছিল। প্রশ্ন উঠেছে, হামলার সময় তারা সেটা প্রতিহত করার জন্য কতটা চেষ্টা করেছিল। অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক জায়গায় পুলিশ তাদের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা খুলে দিচ্ছে এবং এরপর ট্রাম্পের সমর্থকরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করার গেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সহিংসতার সময় বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করার বদলে পুলিশ তাদেরকে ধরে ও পথ দেখিয়ে ভবনের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা যাতে ক্যাপিটল হিলের সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে যেতে পারে, সেজন্য সাহায্য করতেও দেখা গেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

ভাইরাল আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ভেতরে পুলিশের একজন কর্মকর্তা এক ব্যক্তির সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য পোজ দিয়ে দাঁড়িয়েছেন। গ্রাউড বয়েজ নামের একটি চরমপন্থি গ্রুপের সদস্য নিক ওকস তার এরকম একটি সেলফি টুইটারে পোস্ট করেছেন। পরে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, ‘সেখানে হাজার হাজার লোক ছিল। পরিস্থিতির ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আমাকে কখনো থামানো হয়নি এবং জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েক জন আইনপ্রণেতা এখন এই সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের একজন সদস্য ও ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ভাল ডেমিংস, যিনি একসময় পুলিশ প্রধান ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই বেদনাদায়ক যে ক্যাপিটল পুলিশ প্রস্তুত ছিল না, তাদের সংখ্যাও ছিল কম এবং এ বিষয়ে তাদের পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।’ 

জনতার বিক্ষোভের সময় কীভাবে তাদেরকে সামাল দিতে হয়, সেই বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্লিফোর্ড স্টট, ‘ক্যাপিটলে যে এরকম কিছু ঘটতে পারে সে বিষয়ে তাদের (পুলিশ) কাছে তথ্য ছিল। তাদের যে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না সেটা এক ধরনের ব্যর্থতা।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ