ষষ্ঠ শ্রেণি
সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী
আইসিটি শিক্ষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
সুপ্রিয় বন্ধুরা, পাঠ্যবই থেকে উল্লিখিত চরিত্রের গল্পসমূহ পড়লে তোমরা কয়েকটি নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হবে। যে শব্দগুলোর সাথে পূর্বের ক্লাসে তেমন কোনো পরিচিতি হওনি। যেমন, এসএমএস, ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বেতার। আজকে আমরা এই চারটি নতুন শব্দ নিয়ে আলোচনা করবো।
এসএমএস: এস এম এস (SMS) বা শর্ট মেসেজ সার্ভিস (Short Message Service) বা ক্ষুদে বার্তা সেবা, যা তথ্য আদান প্রদানের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সব মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং বেসরকারি ল্যান্ড ফোন কোম্পানি এই সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে মোবাইলের কি প্যাডের মাধ্যমে শব্দ বা বাক্য লিখে মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে অন্য কোন মোবাইলে আন্ত: অপারেটর বা আন্ত: দেশীয় বার্তা পাঠানো হয়।
ইন্টারনেট:ইন্টারনেট এক বিশেষ ধরনের যোগাযোগ
প্রযুক্তি বা কম্পিউটার নির্ভর বৈশ্বিক তত্ত্ব পদ্ধতি যা বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াই হলো ইন্টারনেট সিস্টেম। ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ই-মেইল এর মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা যায়। পরস্পর সম্পর্ক যুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার কেন্দ্রিক অবিরত নেটওয়ার্কের সমষ্টিই হচ্ছে ইন্টারনেট। প্রতিটি নেটওয়ার্কের সাথে শতশত অথবা হাজার হাজার কম্পিউটার যুক্ত থাকে, এগুলোর একটি অন্যটির সাথে তথ্যের আদান প্রদানে সক্ষম ।
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর: মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর হলো একটি আউটপুট ডিভাইজ। যা কম্পিউটার বা দেখা যায় এমন কোনো আইসিটি ডিভাইজের আউটপুট। অনেক বড় আকারে বড় পর্দায় দেখানোর একটি মাধ্যম। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কম্পিউটারের বা কোনো আইসিটি ডিভাইজের সাথে মনিটরের মতো ভিজিএক্যাবলের মাধ্যমে বা আধুনিক পদ্ধতি এইচডিএম আইক্যাবল বা ইউএসবি ক্যাবল বা ওয়াইফাই এর মাধ্যমে সংযোগ করা যায়। বর্তমানে বাজারে খুব সহজলভ্য মূল্যে এলসিডি, এলইডি বা ডিএলপি পদ্ধতির এসব মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে থাকেন।
বেতার: বেতার মানে হচ্ছে তার বিহীন কোনো প্রকার সংযোগ ছাড়া দূরবর্তী কোনো স্থানে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতিকে বলা হয় বেতার। বেতার হলো তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িত্ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে অনেক দেশের বিজ্ঞানী প্রায় একই সময়ে বেতার আবিষ্কার করলে ও গুলিয়েলমো মার্কোনিকে বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে ধরা হয়। পূর্বে শুধু রেডিওতে ব্যবহূত হলেও বর্তমানে বেতার প্রযুক্তির ব্যবহার চলছে সর্বত্র। রেডিও (বেতার), টেলিভিশন (দূরদর্শন), মোবাইল ফোন, ইত্যাদিসহ তারবিহীন যেকোনো যোগাযোগের মূলনীতিই হলো বেতার। বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যবেক্ষণে ব্যবহূত হয় বেতার দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা রেডিও টেলিস্কোপ।
আজকের পাঠের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আগামীতে আমরা প্রথম অধ্যায়ের পাঠ ২ সম্পর্কে আলোচনা করবো।