প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং সার্বিক উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে নজর দেয়া উচিত

ছিদ্দিকুর রহমান, কর্মকর্তা ও শিক্ষানুরাগী

গতকালের পর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে চরম শিক্ষক সংকট। একটি সরকারি বিদ্যালয়ের পাশের কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে প্রায় একই সংখ্যার ছাত্রছাত্রীর জন্য চার-পাঁচ গুন বেশি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যখন শ্রেণি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দৈনিক ছয় থেকে আটটি ক্লাস এর আঞ্জাম দেন তখন তাঁর কাছে কী ই বা শিখন ফল অর্জনের করানোর আশা করতে পারি। আরও ভিশনবিহীন মনে হয় প্রাথমিকের আনন্দ স্কুল বা সেকেন্ড চান্স প্রকল্প।

বর্তমানে যেখানে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির গণিত ও ইংরেজি যথাযথভাবে পড়াতে অনার্স/মাস্টার্স ডিগ্রীধারী প্রশিক্ষিত শিক্ষকগণ হিমশিম খেয়ে যান, সেখানে ঝরে পড়া শিশুদের দায়িত্ব নিয়েছেন এসএসসি/ এইচএসসি পাসধারী ও নামমাত্র বেতনের শিক্ষক। এই ঝরে পড়া অবাধ্য শিশুদের বুঝিয়ে মূল ধারায় নিয়ে এসে দেশের উন্নয়নে অংশীদার বানানোর উদ্দেশ্য যদি হয় আমাদের নীতি নির্ধারকদের, তাহলে এই প্রকল্পের শিক্ষক নিয়োগ কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ঠিক একই রকম অবহেলার শিকার শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা শিক্ষা অফিস। প্রতিষ্ঠানটি সেবাদানের পরিবর্তে শিক্ষক হয়রানির প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। হয়রানির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার দায়ভার কেবল উপজেলা পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের উপর বর্তায় না। হয়রানির দায়ভার নীতি নির্ধারকদের উপরেও বর্তায়। এখনও উপজেলা শিক্ষা অফিস সেই ১৯৯৪- ৯৫ সালের কাঠামো, জনবল ও প্রযুক্তি দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। পরিবর্তন যা হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। অথচ বিগত দুই যুগে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে বহু প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা অফিসের কাজের ভলিউম শত গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষক জাতীয়করণ সহ হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে এবং হচ্ছে। তার বিপরীতে শিক্ষা অফিসের কলেবর এতটুকু ও বাড়েনি। ফলে সেবাগ্রহিতা শিক্ষকগণ প্রত্যাশিত সেবা যথাসময়ে না পেয়ে তাঁদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে যার প্রচ্ছন্ন প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষকগণের নিরবিচ্ছিন্ন সেবাদান ও পাওনাদি যথাসময়ের মধ্যে পরিশোধ করে মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে তাঁদেরকে নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ করার বিকল্প নেই। কিন্তু প্রাপ্ত সেবাদি পেতে বিলম্ব, দ্রুত সেবা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অফিসকে ঘুষ প্রদান ইত্যাদি কাজে যখন শিক্ষকদের মন ভেঙ্গে যায় তখন তাঁদেরকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের তাগিদ দেয়া উপজেলা পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণ নৈতিক অধিকার রাখেন না।