চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ‘কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ। গতকাল ‘চালের দাম বৃদ্ধির কারণ এবং তাতে কার লাভ কার ক্ষতি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এই আহ্বান জানান প্ল্যাটফরমের সমন্বয়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, প্রাক্কলনের হিসাব ঠিক না থাকায় চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সময় মতো আসেনি। তাছাড়া মজুত অনেক কম থাকায় সরকার বাজারকে প্রভাবিত করতে পারছে না। এবার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান জোরদারে সফলতা আসেনি। একটি মূল্য কমিশন থাকলে তারা বাজার দর বিশ্লেষণ করে দাম নিয়ে পূর্বাভাস দিতে পারত। ছোট ও মাঝারি কৃষকের টিকে থাকার সক্ষমতা কম, তাই তাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় গাইবান্ধা, নওগাঁ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা অংশ নেন। আলোচনায় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল কিনছে; কিন্তু সেই সুফল অনেক কৃষক পাননি। এ ছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে সরকারের দুর্বলতা এবং ছোট ছোট অনেক হাসকিং মিল বন্ধ হওয়ায় চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অসহযোগিতার বিষয়গুলোও তারা উল্লেখ করেন। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, ধান উত্পাদন ক্রমাগত হারে কমছে। ধানের জমিগুলো উচ্চমূল্যের ফসলে চলে যাচ্ছে। আমরা যতই উত্পাদন বাড়াই না কেন, আবাদি জমি কমে গেলে সেটা এক পর্যায়ে হুমকি হয়ে দাঁড়বে। তিনি আরো বলেন, সরকারি গুদামে ছোট কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ করার সুযোগ করে দিতে হবে, যেন ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে অল্প দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, দাম বাড়ার পেছনে সরকারের কোনো হাত নেই। যারা ব্যবসা করেন, মজুত করেন তারাই লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই মন্তব্যে দ্বিমত করেন ব্যবসায়ীরা। অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান বলেন, বহু মালটি ন্যাশনাল কোম্পানি এখন চাল ব্যবসায় নেমেছে। ব্যাংকের মালিক এখন চাল ব্যবসায়ী। তাদের মাত্র ৩ শতাংশ সুদে ইইএফ ফান্ড থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রাইস মিলের মালিকরা ১৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় কীভাবে করবে? মিলের মালিকরা এখন ডিফল্টার। তারা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। করোনার এই সময়ে সরকার প্রণোদনা দিলেও রাইস মিলের মালিকরা এর সুফল পায় নি।
বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ আলম বাবু বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও সঠিক সময়ে এই নীতি গ্রহণ না করায় সময়মতো চাল আমদানি করা যায়নি। ধান ও চালের তথ্য বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির উত্পাদনের ভুল প্রাক্কলন নিয়ে সংলাপে উপস্থিত বক্তাদের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন—উত্পাদনের প্রাক্কলন সঠিক ছিল। দেশের মানুষের ভাত গ্রহণের পরিমাণ বিবিএসের জরিপের চেয়েও বেশি ধরে প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং খাবার ছাড়া অন্য খাতে চালের ব্যবহার বেশি ধরেই প্রাক্কলন করা হয়েছে। দেশে খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন না তিনি। বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকার প্রকৃত কৃষকের থেকে চাল না কিনে মিলারদের থেকে ক্রয় করছে, তাই কৃষক উপকৃত হচ্ছে না। মিলারদের ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মজুতদারির কারণে প্রতি বছর বাম্পার ফলনের পরেও চালের দাম বাড়াছে।