পরিবার হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে নির্ধারিত হয় একটি শিশু কেমন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠবে। সাধারণত পারিবারিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে একজন শিশুর মানসিক বিকাশ। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আচার-আচরণ, বৈশিষ্ট্য, অভ্যাস সবকিছুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বেড়ে উঠে। বলা হয়, একটি শিশু পৃথিবীতে আগমন করার পর তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। আর সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলো পিতা-মাতা। তাই উন্নত চরিত্র গঠনে পিতা-মাতাকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। পরিবার, পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কম-বেশি সবকিছুর প্রভাব পড়ে একজন শিশুর মনন বিকাশে। তাই সন্তান জন্ম নেওয়ার পরপরই অতি আদরে তাকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। শাসনের লাঠিটা সবসময় হাতেই রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন সন্তান বিপথগামী না হয় সেবিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে পরিবারকে।
মাঝে-মধ্যেই পত্রিকার পাতায় বেশ অবাক করা সংবাদে চোখ আটকে যায়। সন্তানের হাতে পিতা অথবা মাতা খুন! অথবা তথাকথিত শিক্ষিত ছেলে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছে। নয়তো পরিবারের অন্য সদস্যদের ঠকিয়ে পিতা-মাতার সব জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছে। এমন শিরোনামে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।
এই ঘটনাগুলো আমাদের মনে এতটুকু দাগ জন্মায় না। অথচ একটা সময়ে আমাদের দেশে এ সমস্ত ঘটনা কালে-ভদ্রে ঘটত। এখন তো এমন ঘটনা পান্তাভাতের মতো। তার পরেও আমাদের কোনো অভিভাবক শিক্ষা গ্রহণ করছে না। বরং তথাকথিত আধুনিকতার নামে সন্তানদের অবাধ স্বাধীনতায় ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ নিজেদের এক দিন বৃদ্ধাশ্রমের অংশীদার তৈরি করছে। আমি আগেই বলেছি পিতা-মাতা সন্তানের সামনে যেমন আচরণ করবে তেমন আচরণ শিখবে সেই সন্তান। আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে বৃদ্ধ পিতা-মাতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তাহলে বড় হয়ে সেই সন্তান আপনার সঙ্গে অসত্ আচরণ করবে এটাই সত্য। আপনি যদি বয়স্ক, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তাহলে সেই সন্তান এমন আচরণ শিখবে।
শুধু সন্তানদের তথাকথিত শিক্ষিত করে গড়ে না তুলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। ভালোবাসা, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নৈতিকতার শিক্ষা সন্তানকে পরিবার থেকে দিতে হবে। সে কার সঙ্গে মিশছে, কেমন পরিবেশে চলাফেরা করছে, বন্ধুবান্ধব কেমন স্বভাবের, রাতে কখন বাড়িতে ফিরছে ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এখন নতুন সমস্যা যুক্ত হয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই সন্তানকে হাতে স্মার্ট ফোন দেওয়ার আগে তার ব্যবহারবিধি নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি কতটা ভালো কাজে ব্যবহার করছে সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। সন্তান যেন মোবাইল গেইমে আসক্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, কাদের সঙ্গে বেশি কথা বলছে তার খোঁজখবর পিতা-মাতাকে রাখতে হবে। কারণ প্রযুক্তি অসহায়তায় অনেকে উগ্র, ধর্মান্ধ, বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। কোনোভাবেই আপনার সন্তান কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সেই দায়িত্ব পরিবারকে নিতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়