আড়াই লাখ টাকায় ধর্ষণের রফা করার চেষ্টা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে জোরপূর্বক সালিশ করে ধর্ষককে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী। গত শনিবার রাতে উপজেলার সায়দাবাদে ধর্ষকের বাড়িতে ঐ সালিশ বৈঠক বসে। তবে অভিযোগকারী ধর্ষণের শিকার সেই গহবধূ সালিশে উপস্থিত ছিলেন না।

এ সময় গৃহবধূর পক্ষে তার চাচা সাইফুল ইসলাম এবং ধর্ষক আজাহারের পক্ষে চেয়ারম্যান সরবেশ কথা বলেন। গৃহবধূর স্বামী সালিশ না মানায় তাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত না মানলে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও মুখ খুলতে নিষেধ করা হয় তাকে। পরে ধর্ষকের ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে রাতেই ঐ গৃহবধূকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, দরিদ্র ঐ গৃহবধূকে গত ৮ জানুয়ারি রাতে একা পেয়ে ওই বাড়ির মালিক আজাহার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্বামী রুমনকে জানালে তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান সরবেশ আলী থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করেন এবং কোথাও কোনো কথা জানাতে পারবে না বলে ভয়ভীতি দেখান। ফলে ওই গৃহবধূ থানায় অভিযোগ দিতে পারেননি।

উপজেলার যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীন জানান, এ ব্যাপারে উভয় পক্ষকে বসিয়ে সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা লেনদেনের কথা জানতে চাইলে তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান।

রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।