১৯৩৪ :মাস্টারদা সূর্য সেনের মৃত্যু
বিপ্লবী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) শেষের দিকে অনুরূপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখের সঙ্গে চট্টগ্রামে গোপন বিপ্লবী দল সংগঠনের কাজ শুরু। ১৯৩০-এর চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল ও তার কয়েকদিনের মধ্যে জালালাবাদ পাহাড়ে কয়েক শ নিয়মিত সৈন্যের সঙ্গে বিপ্লবীদের যে সম্মুখ যুদ্ধ হয়, তাতে ব্রিটিশ শাসনের প্রায় দেড় শ বছরের মধ্যে সাময়িকভাবে হলেও ব্রিটিশরা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে এই দেশের মানুষের কাছে পরাজয়বরণ করে পালিয়ে বাঁচে। চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা সূর্য সেনের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র অভ্যুত্থান করেন, তার ঐতিহাসিক মূল্য অনেক। ইংরেজ সরকার সূর্য সেনকে গ্রেফতারের জন্য প্রচুর টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। তাঁকে ধরতে এসে ক্যাপ্টেন ক্যামেরুন নির্মল সেনের গুলিতে নিহত হয়। অবশেষে ১৯৩৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সূর্য সেন গৈরলা গ্রামে এক নিকট আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়েন। বিচারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সরকার উপস্থিত করতে পারেনি। সঙ্গে রিভলভার পাওয়ার জন্য কেবল অস্ত্র আইনে সাজা হতে পারত তাঁর, কিন্তু ইংরেজের বেতনভোগী বিচারক তাঁর প্রাণদণ্ডের আদেশ দিতে দ্বিধা করেনি। এর বিরুদ্ধে সমস্ত আপিল বাতিল হয় এবং সূর্য সেনের ফাঁসির হুকুম বহাল থাকে। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন।