দেহে শক্তি বাড়ায় জবা ফুল

জবা গাছের পাতাগুলো দেখতে চকচকে সবুজ। জবা ফুল উজ্জ্বল লাল বর্ণের, এতে ৫টি পাপড়ি যুক্ত থাকে। জবার ব্যবহার্য অংশ হচ্ছে ফুল, পাপড়ি ও গাছের ছাল। এবার জবার কিছু ভেষজ গুণাগুণ জেনে নেওয়া যাক—

দেহের শক্তি বৃদ্ধিতে :অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল আমাদের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে দেহের সুস্থতা এনে দেয়।

যৌবন সুরক্ষায় :নিয়মিত জবা ফুল খেলে মানবদেহে বয়স বাড়ার প্রবণতা ধীরগতিসম্পন্ন হয়ে ওঠে। তার মানে, জবা ফুল নিয়মিত সেবনে সেবনকারীকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে। এছাড়া নিয়মিত জবা ফুল দিয়ে চা বানিয়ে কিংবা সবজি হিসেবেও খেতে পারেন—এতে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায় ও স্থায়ীত্ব বাড়ে।

ঘন ঘন প্রস্রাবে :অনেকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে এবং ডায়াবেটিস রোগী না হয়েও ঘন ঘন প্রস্রাব করে। এক্ষেত্রে জবা গাছের ছালের রস এক কাপ পানিতে দু’চামচ চিনি মিশিয়ে এক থেকে দেড় সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিসে :জবা ফুল থেকে তৈরি উপাদান ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ঠান্ডা কমাতে :জবা ফুলে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। যা হালকা ঠান্ডালাগা, গলাব্যথা বা মাথাব্যথা সারাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে জবা ফুল সবজি হিসেবে বা সরাসরি খাওয়া যেতে পারে।

হার্টের সমস্যায় :জবা ফুল আমাদের দেহের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে হার্টের সমস্যা দূরীকরণে সাহায্য করে। তবে নিয়মিত ১-২টি পাপড়ি খেতে হয়।

ব্রণের সমস্যায় :প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে :জবা ফুলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। সাধারণত জবা ফুলে তৈরি চা বা অন্য যে কোনো পদ্ধতিতে জবা ফুল খেলে দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং দেহ সুস্থ রাখে।

দেহের ব্যথায় :জবা ফুল মানবদেহের ব্যথা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। এজন্য প্রথমে লাল জবার পাঁচটি করে পাতা ও পাপড়ি নিয়ে পানিতে ৩-৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি ঠান্ডা করে নিয়ে ৩০ মিনিট পর পান করতে হবে। টানা তিন সপ্তাহ এই মিশ্রণ পান করতে হবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার :এক্ষেত্রে প্রথমে লাল জবার পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়া করে নিতে হবে। তারপর সেই গুঁড়া প্রতিদিন পানি, দুধ বা ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখ পরিষ্কার হবে, মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বলিরেখার আবির্ভাব রোধ হবে।

চুলের যত্নে :চুল গজানোতে জবা ফুলের গুরুত্ব অনেক। যাদের মাথায় টাক রয়েছে তারা জবা ফুল বেটে নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় টানা কিছুদিন ব্যবহার করলে টাকের সমস্যা অনেকটা দূর হয়। প্রসঙ্গত, জবা ফুলে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম দিয়ে তৈরি করা তেল চুলের গোড়া মজবুত করে।

খুশকি সমস্যায় :খুশকি কমাতে জবা ফুল দারুণ কার্যকরী। প্রথমে অল্প পরিমাণ মেথি পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে এর সঙ্গে অর্ধেক অনুপাতে অলিভ অয়েল এবং জবা ফুলের তেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি ভালো করে মাথায় মেসেজ করার পর তা একেবারে শুকিয়ে গেলে কুসুমগরম পানি দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে কমপক্ষে টানা তিন সপ্তাহ ব্যবহারে দূর হয় খুশকি।

মূত্রনালির সংক্রমণে :জবা ফুলে থাকা পুষ্টি উপাদান মূত্রনালির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং ইউটিআই থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়া জবা ফুলের চায়ে ফ্লাভনয়েড থাকে, যা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সক্ষম।

চোখ উঠলে :চোখের কোণে ক্ষত হয়ে পুঁজ পড়তে থাকলে বা চোখ ওঠলে জবা ফুল বেটে চোখের ওপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগালে উপকার মিলে। দিনের যে কোনো সময় ১-২টি ফুল বেটে কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগাতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিবার কম করে হলেও এক ঘণ্টা রাখতে হবে।

মানবদেহে পানি নিয়ন্ত্রণে :জবা ফুল নিয়মিত সেবনে মানবদেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা হয়। ফলে সহজেই দেহে কোনো রোগ-বালাই আক্রমণ করতে পারে না।