শরণখোলার লোকালয়ে বাঘ আতঙ্ক!

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা 

শরণখোলার লোকালয়ে আবারও বাঘ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে সুন্দরবন থেকে একটি বাঘ উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে ঢুকে পড়ে বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে বাঘের পায়ের ছাপ নজরে আসে গ্রামবাসীর। বাঘটি ঐ গ্রামের দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিচরণ শেষে আবার বনে ফিরে যায়। বাঘের পায়ের অসংখ্য ছাপ পড়ে রয়েছে গ্রামের ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও নদীর চরে। রবিবার বিকালে বনরক্ষীদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এদিকে গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য সোমবার বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। বন বিভাগ জানায়,পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়িসংলগ্ন খাল সাঁতরে বাঘটি গ্রামে চলে আসে। রাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রবিবার ভোর রাতে নাংলী টহল ফাঁড়ির কাছ থেকে বাঘটি আবার বনে ফিরে যায়। এর তিন মাস আগে আরো একটি বাঘ পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এসেছিল।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলার মাঠ কর্মকর্তা আলম হাওলাদার ও ভিটিআরটির দাসের ভারাণী ইউনিটের সদস্য আবদুল্লাহ আল আমীন সুমন জানান, প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পায়ের ছাপ দেখতে পান। পরিমাপ করে দেখা গেছে, পায়ের ছাপের ব্যাসার্ধ ৯ সেন্টিমিটার। ছাপের আকৃতি দেখে বাঘটি ‘মাদি’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রামে বাঘ আসার খবরে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মানুষ ভীত হয়ে পড়েছে। গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম খান, সোবাহন হাওলাদার জানান, তাদের গরু-মহিষ রক্ষায় গোয়ালে শক্ত ঘেরা দিয়ে রাতে আলো জ্বালিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। বন বিভাগের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বনরক্ষীরা গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, রবিবার বিকালে শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।