বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমার জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে হলেও আমি নির্বাচন সুষ্ঠু করব। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। আমি এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমার কাছে নির্বাচন বড় কথা নয়, প্রতিজ্ঞা বড় কথা। আমি নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর বসুরহাট পৌরসভার জন্য ৬০ লাখ টাকা বাজেট করে। কিন্তু আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির, পুল-কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মক্তব, মাদ্রাসাসহ এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমি পুনরায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। বসুরহাটে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। আমি বসুরহাট পৌরসভাকে সিঙ্গাপুর বানাব।’ তিনি নোয়াখালী জেলার এক এমপির ছেলের প্রসঙ্গে বলেন, ‘একটি বাচ্চা ছেলে নাকি আমাদের নেতা, আইকন। নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু আমাদের নেতা। তিনি বাচ্চা ছেলের ছবি তার বুকের মধ্যে লাগিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ষড়যন্ত্র বিভিন্ন জায়গা থেকে হচ্ছে, হবে। নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার জন্য, রং লাগানোর জন্য মাইজদী থেকে হচ্ছে, ফেনী থেকে হচ্ছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আমার মামা বিএনপির প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী, আরেক প্রার্থী মোশারফকে বলেছি, ভোটের দিন কোনো প্রকার অনিয়ম হলে নির্বাচন বর্জন করব।’
তিনি বলেন, আজ সকালে অন্য এক জায়গা থেকে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে ঘর থেকে নির্বাচন করার জন্য বের হতে দিচ্ছে না। আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী সুন্দরভাবে নির্বাচন করছে। আমার কিছু কিছু কাউন্সিলর পদপ্রার্থী প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ধমকাচ্ছে। আমি আমার কাউন্সিলর প্রার্থীদের বলতে চাই, ধমকানি বন্ধ করুন, ভোট ডাকাতি বন্ধ করুন, অনিয়ম বন্ধ করুন, এ নির্বাচনে এগুলোর কোনো সুযোগ নেই।’
আবদুল কাদের মির্জা গতকাল সোমবার তার নির্বাচনি প্রচারণাকালে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন :কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট শিল্পপতি অরবিন্দ ভৌমিক, এলিন গ্রুপের পরিচালক ও শিল্পপতি গোলাম শরিফ চৌধুরী পিপুল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন ফরহাদ, বসুরহাট দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সুলতান নাছির উদ্দিন মুন্না, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান প্রমুখ।