সরকার পতনের আন্দোলনে দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই সরকার দেশে একটি লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করেছে। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের মানুষের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অনির্বাচিত সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এখনো সময় আছে, পদত্যাগ করুন। না হয় দেশের সচেতন মানুষ আপনাদের চলে যেতে বাধ্য করবে। আমি দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা আমাদের নিজেদের অধিকার, ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য এই সরকারকে হটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করি।’
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দীন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, কৃষক দলের সদস্যসচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, যুবদল মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও মত্স্যজীবী দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ।
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন থাকাকালে বাংলাদেশে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০৭ সালের এই জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্যদিয়ে একটা অবৈধ ও বেআইনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল, যারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সুচিন্তিতভাবে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করেছে। সে সময় বেগম খালেদা জিয়াসহ অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে, আজ আওয়ামী লীগ সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে একইভাবে দেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আজ বিএনপির ২৫ লাখেরও বেশি নেতাকর্মীর ওপর মামলা রয়েছে।’ ফখরুল বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গিয়েও তার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলো, তাদের বিচার বিভাগ, পার্লামেন্ট ট্রাম্পের অপচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমন করার কারণেই আজ আমেরিকায় গণতন্ত্র ধ্বংস করা যায়নি। সেখানে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘উনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পান কিন্তু জনগণ, ভোটার, নির্বাচন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, কারচুপি-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে—এগুলো উনি দেখতে পান না। তার এক চোখ কানা, এক কান ঠসা। তার কমিশনের বিরুদ্ধে টাকা চুরি করার অভিযোগ করেছেন দেশের ৪১ জন বুদ্ধিজীবী। এ অভিযোগকে তিনি পাত্তাই দেননি। কারণ তিনি তো শেখ হাসিনার কাছে মুচলেকা দিয়েছেন যে, তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেবেন না।’