গত শনিবার থেকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আসা শুরু হলেও তা আমদানি মূল্য জটিলতার কারণে ছাড় করা হচ্ছে না। দীর্ঘ ২০ মাস পর চালের আমদানি শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় গত তিন দিন ধরে বন্দরের ভেতরে ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিকটন চাল বোঝাই ২৬-২৭টি ভারতীয় ট্রাক।
২০১৯ সালের ৩০ মে সর্বশেষ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে চাল আমদানি করা হয়েছিল। তারপর থেকে চাল আমদানি নিরুত্সাহিত করতে সরকার চালের ওপর রাজস্ব বাড়িয়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ করে। যার ফলে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমসের উপ-কমিশনার সাইদুল আলম জানান, বাইরের দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হলে আমদানিকৃত চালের প্রতি মেট্রিক টনের আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪২০ মার্কিন ডলার। সেই মূল্য ধরে এর ওপর আবার সরকারি ১৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করা হয়। চাল আমদানি করার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকারকরা ভারত থেকে ৩৫৬ ডলারে চাল আমদানি করছেন। যা ৬৪ ডলার কম। আমদানিকারকদের কাস্টমস থেকে চাল খালাস করতে হলে ৪২০ ডলারে রাজস্ব পরিশোধের মাধ্যমে খালাস করে নিতে হবে। তাছাড়া সম্ভব নয়। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরেও ৪২০ ডলারে দেশে চাল আমদানি হচ্ছে এবং সেই মোতাবেক রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জগদিশ চন্দ্র রায়ের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সেরেগুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে আমরা ৩৫৬ ডলারে চাল আমদানি করেছি। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই তিন দিনে ২৬-২৭টি ভারতীয় ট্রাকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করেছে। এরপর আমরা কাস্টমে চাল খালাস করতে গেলে তারা ৪২০ ডলার ছাড়া খালাসের অনুমতি দিচ্ছে না। এই অবস্থায় চাল খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কাস্টমের আমদানি মূল্যে চাল খালাস করা হলে প্রতি কেজি চালের মূল্য পড়বে ৪০ টাকার ওপরে। আর আমরা যে মূল্যে আমদানি করেছি তাতে খরচ পড়বে ৩৭ টাকার মতো।
এ ব্যাপারে আমাদের আমদানিকারকরা গতকাল সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা চাল খালাস করব। তার আগে খালাস করছি না। তিনি আরো জানান, গত তিন দিন ধরে চালগুলো ভারতীয় ট্রাকে বোঝাই অবস্থায় আছে। এতে চালের মান নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া আমাদের অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়াসহ বন্দরের মাশুল বেশি গুনতে হবে। কেজিতে আরো খরচ পড়ে যাবে।
সম্প্রতি দেশে চালের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার ভারত থেকে বেসরকারি খাতে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ২৯ জন আমদানিকারককে ভারত থেকে চাল আমদানি করার অনুমতি দেয়। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।