সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির দুই মামলা

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী। এসব মামলায় সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গতকাল সোমবার সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। কাজী আনিসুর রহমান ও আইনজীবী সারওয়ার আলম বাদী হয়ে এই মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলার আর্জিতে বলা হয়, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিছক হয়রানিসহ তার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে দেশ ও সমাজে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং রাজনৈতিক জয়প্রিয়তাকে নস্যাত্ করার উদ্দেশ্যে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন সাঈদ খোকন। তার এ বক্তব্য বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথে

দেনা-পাওনার হিসাব হবে :সাঈদ খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘তাপসের (ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস) মানসম্মানের বাজারমূল্য কত? মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তৈরির পর সেটা আমি জানতে পারব। এ মামলায় আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথে দেনা-পাওনার হিসাব হবে, ইনশাআল্লাহ।’ গতকাল সোমবার সাঈদ খোকনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল ইসলাম সুমনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাঈদ খোকন গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন অভিযোগ করেন, ‘তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মেয়র সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯, দ্বিতীয় ভাগের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯(২) (জ) অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ পরদিন রবিবার এক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে মেয়র তাপস সাঈদ খোকনের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ওনার (সাঈদ খোকন) ব্যক্তিগত অভিমত। এটা কোনো গুরুত্ব বহন করে না।’ এছাড়া ‘ব্যক্তিগত আক্রোশের’ কোনো বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়াটাও সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন মেয়র তাপস। এরপর গতকাল সকালে এক কর্মসূচিতে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান মেয়র তাপস। এরপর বিকেলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।