দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালীন ট্রাক্টর মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন ভারতের আন্দোলনকারী কৃষকরা। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলোকে নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লি পুলিশের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি ভি রামসুব্রহ্মণ্যমের বেঞ্চ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের তরফে সোমবার শীর্ষ আদালতে ট্রাক্টর মিছিল বন্ধের আর্জি জানানো হয়েছিল। আবেদনে বলা হয়, ‘আন্দোলনকারী কৃষকদের একটি ছোট অংশ ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্রাক্টর মিছিলের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। অবনতি হতে পারে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। ফলে গোটা জাতি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে’। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মঙ্গলবার কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত তিনটি আইন কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি, কেন্দ্র এবং আন্দোলনকারী কৃষকদের মধ্যে সমঝোতা করতে একটি কমিটি গড়ার কথাও জানিয়েছে। আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলোর আইনজীবী এম এল শর্মা কমিটিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালে তাকে ভর্ত্সনাও করেছে শীর্ষ আদালত। শুনানি পর্বে শর্মা মঙ্গলবার জানান, ‘কৃষকরা আর আলোচনায় অংশ নেবেন না। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করেছেন।’ জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কী বললেন, তা এখানে বিবেচ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী এই মামলার কোনো পক্ষ নন।’
এই পরিস্থিতিতে ট্রাক্টর মিছিল প্রসঙ্গে কৃষক সংগঠনগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের যুক্তি, ২৩ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের চূড়ান্ত মহড়া হয়। সে সময় থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তাই ঐ সময়ে যে কোনো ধরনের সমাবেশ বন্ধ রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্ট কৃষক সংগঠনগুলোর কাছে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে জানতে চেয়েছে ট্রাক্টর মিছিল স্থগিত রাখা সম্ভব কি-না। আগামী সোমবার ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কৃষকদের।