ঘাটাইলে চোর সন্দেহে আদিবাসী নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চোর সন্দেহে সন্ধ্যা রানী নামে এক আদিবাসী নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। সোমবার এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ঐ নারী পাঁচ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলে সবাই আত্মগোপনে যান। মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার মালিরচালা গ্রামের মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া, তার ছেলে মোস্তফা ভুঁইয়া ও সজীব ভুঁইয়া এবং মেয়ে মোছাম্মত খুকি ও সুমি আক্তার।

পুলিশ জানায়, একই গ্রামের নারায়ণ বর্মণের স্ত্রী নির্যাতনের শিকার সন্ধ্যা রানী দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। তার ছোট ছেলে পলাশ (৮) পাশের বাড়ির মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়ার পরিবারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই খেলা করত। ১৫ দিন আগে পলাশ ঐ বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে এবং তাদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ায়। হঠাত্ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকাসহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি যায়। এ ঘটনার জের ধরে ৩ জানুয়ারি তারা পলাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারপিট করে এবং তার কাছ থেকে চুরির ব্যাপারে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে। ৯ জানুয়ারি মনিরুলের দুই মেয়ে মোছাম্মত খুকি ও সুমি আক্তার সন্ধ্যা রানীর বাড়িতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ধরে এনে বাড়ির পাশের আকাশমনি গাছের বাগানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় মনিরুল ভুঁইয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ ঘটনায় সে মারাত্মক আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করে।

এদিকে এ ঘটনায় আদিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আজ বুধবার আদিবাসী কোচ ইউনিয়নের ব্যানারে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।

সাগরদীঘি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে অভিযান চলছে।