মাদক মামলায় কারাগারে থাকা পল্লবীর বেনারসি কারিগর নির্দোষ মো. আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহ স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানিতে অমিত দাসগুপ্ত বলেন, এ ঘটনায় দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু রিটের রায়ে হাইকোর্ট আরমানকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ২০ লাখ টাকা দিতে পুলিশের আইজিপিকে বলা হয়েছে। আমরা এই আদেশ স্থগিতের প্রার্থনা করছি। তবে আরমান মুক্তি পেলেও কোনো সমস্যা নাই।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন নিরপরাধ মানুষের কারাভোগের জন্য হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বলেছে। এ ধরনের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এ ধরনের মামলা বিদেশে হলে ক্ষতিপূরণ হতো কয়েক মিলিয়ন ডলার। সেখানে মাত্র ২০ লাখ টাকা দিতে বলেছে হাইকোর্ট। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়।
গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে অপরাধী না হয়েও প্রকৃত আসামির পরিবর্তে কারাভোগের জন্য আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে আরমানকে অবিলম্বে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, এটা কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের নয়, এটা পুলিশ প্রশাসনের সামগ্রিক ব্যর্থতা। গণমাধ্যমের রিপোর্ট ও মামলার নথি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পল্লবী থানার দায়িত্বরত তত্কালীন পুলিশ সদস্যদের ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এ ধরনের ঘটনা ন্যক্কারজনক। সাংবিধানিক আদালত হিসেবে এতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।
গত বছরের ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত তিন বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। শুধু পিতার নামের মিল থাকায় পুলিশ আরমানকে গ্রেফতার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।