বসুন্ধরাকে টানছেন রাউল অস্কার

বসুন্ধরা কিংস ১০ জানুয়ারি ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনার খেলল। চ্যাম্পিয়ন হলো। ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার ম্যাচ খেলল। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী খেলায় বসুন্ধরা কিংস ২-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারা ক্লাবকে। প্রথমার্ধে ১-০ এবং দ্বিতীয়ার্ধে ২-০। প্রথমার্ধে আর্জেন্টাইন রাউল অস্কার এবং দ্বিতীয়ার্ধে ইব্রাহিম গোল করেন। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের খেলোয়াড়রাই বসুন্ধরাকে একটি একটি ম্যাচ জিতে ওপরে তুলে নিয়ে গেছেন। দেশি ফুটবলারদের গোল পাওয়াটা কঠিন ছিল। দেশিরা দলের শক্তি। কিন্তু গোলা করার দায়িত্বটা যেন বিদেশিদের কাঁধেই ছিল বেশি। এটা ঠিক দেশের খেলোয়াড়দের মানের তুলনায় এখনকার বিদেশিদের মান ক্ষাণিকটা হলেও ভালো। অতিমাত্রায় ভালো হলে তারা কি বাংলাদেশে আসত। কখনোই না। বাংলাদেশের দর্শক ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আর সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে আসেন, নিশ্চই আকাশছোঁয়া পারফরম্যান্সের জন্য নয়। বাংলাদেশের ফুটবলে বিশ্বকাপ খেলে আসা কিংবা ঢাকায় খেলে গিয়ে পরে বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলেছেন এমন রেকর্ডও আছে এ দেশের অতীত ফুটবলে। এখন মান পড়ে যাওয়ায় সামনে যাকে পাওয়া যায় তাকে নিয়েই মাতামাতি করতে হয়। কিছু পোড়খাওয়া দর্শক আছেন যারা ফুটবল মাঠে আসবেনই। এই মানুষগুলোই ফুটবল গ্যালারিতে নিভুনিভু প্রদীপটা জ্বালিয়ে রেখেছেন মূলত। তাই হয়তো কাল বিকালে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে ছিলেন শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে।

বসুন্ধরা খুব সহজে জিতেছে তা-ও বলা যাবে না। উত্তর বারিধারা কয়েক বার সুযোগ পেয়েছিল গোল শোধ দেওয়ার। সেটি না পারার ব্যর্থতা বারিধারা আক্রমণভাগের। অধিনায়ক সুমন রেজা জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। দুই বার বসুন্ধরার জালে বল পাঠানোর মতো সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। অভিজ্ঞতার কারণেই মনে হলো। ছোট বক্সে ঢুকে বল পেয়েও যদি কেউ পোলিও শট করেন তাহলে সেটা ঐ প্লেয়ারের ওপর দায় বর্তায়। সমুন রেজা এমন দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে দলকে বঞ্চিত করেছেন। আফসোসে পুড়েছেন মিশরীয় মোস্তফা আবদেল, স্বদেশি আবদেল খালেক, উজবেক ফজিলভরা। সুযোগ তারাই তৈরি করে দিয়েছিলেন।

আজকের খেলা : আবাহনী ও পুলিশ, বিকাল ৪টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।