এলডিসি হতে উত্তরণের প্রস্তুতিতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে বাংলাদেশ

আসছে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হতে উত্তরণ বা গ্র্যাজুয়েশনের মানদণ্ড পূরণ ও উত্তরণের সুপারিশ লাভ করতে চলেছে বাংলাদেশ। উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করার লক্ষ্যে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসমূহ আরো বেশি সময় অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আসন্ন ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক্সপার্ট গ্রুপ সভার এক বৈঠকে বাংলাদেশ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএন-সিডিপির কাছে এই আহ্বান জানায়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ হতে সিডিপির কাছে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি প্রস্তুতিকালীন সময় প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) জুয়েনা আজিজ। বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন তার উপস্থাপনায় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসমূহ অব্যাহত রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত সিডিপির সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছিল। জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করে। সিডিপির প্রবিধান অনুযায়ী উত্তরণের সুপারিশ লাভের পর একটি দেশ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রস্তুতিকালীন সময় ভোগ করতে পারে। আগামী মাসে ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় উত্তরণের সুপারিশ লাভের পর পাঁচ বছর প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশন ২০২৬ সালে কার্যকর হবে। ইআরডি জানিয়েছে, প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরো তিন বছর অর্থাত্ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে তিনটি সূচকের ভিত্তিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। সেগুলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এ পর্যন্ত ছয়টি এলডিসি থেকে উত্তরণে সমর্থ হয়েছে। এই দেশগুলো হলো—বোতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ও ভানুয়াতু।