আগামী ২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগে ট্রাম্প সমর্থক ও কট্টর ডানপন্থিরা সশস্ত্র বিক্ষোভ করতে পারে এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সতর্ক করেছিল, ট্রাম্প সমর্থকরা ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল হিল এবং ওয়াশিংটন ডিসিকে টার্গেট করতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তায় ১৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করছে পেন্টাগন। এদিকে দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলিসহ সব শাখার জ্যেষ্ঠ জেনারেলরা বলেছেন, জো বাইডেনই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। মার্কিন জেনারেলদের এই বিবৃতিকে তার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পকে অভিশংসনে গতকাল রাতে বিতর্ক শুরু করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। খবর সিএনএন ও বিবিসির
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ :এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্পপন্থিদের কর্মসূচির মধ্যে ১৭ জানুয়ারি দেশ জুড়ে বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র বিক্ষোভ ও ২০ জানুয়ারি বাইডেনের অভিষেকের দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্য, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আদালত ভবনে ঝড়ের বেগে ঢুকে সেগুলো দখলের ডাক দিয়েছে একটি গোষ্ঠী। এ অবস্থায় বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন ওয়াশিংটন ডিসি ও ক্যাপিটল হিলের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করছে পেন্টাগন। ন্যাশনাল গার্ড ও নিয়মিত সেনাদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থক থাকতে পারে এমন প্রশ্ন ওঠার পর পেন্টাগনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমাদের র্যাংকে চরমপন্থিদের সহ্য করা হবে না।
ক্যাপিটল হিলের পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাপিটলের চারপাশের রাস্তা দ্রুত বন্ধ থাকবে। রাজ্যে রাজ্যে ক্যাপিটল ভবনগুলোর নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিশিগান রাজ্য সরকার সোমবার থেকে ক্যাপিটল ভবনে উন্মুক্তভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। উইসকনসিনের সরকার ক্যাপিটল পুলিশকে সহায়তা করতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের বিষয়টি অনুমোদন করেছে। পেনসিলভেনিয়ার সরকার ক্যাপিটলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। জর্জিয়ায় ক্যাপিটলের চারপাশে নতুন বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি সশস্ত্র রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
বাইডেনই পরবর্তী ‘কমান্ডার ইন চিফ’
গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখার চিফ অব স্টাফদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে যে কোনো কাজ আইনবিরোধী। যারা ঐ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু বাক্স্বাধীনতা বা বিক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা মানে সহিংসতা, রাষ্ট্রদ্রোহ বা বিদ্রোহ করার অধিকার নয়। বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সংবিধান রক্ষার বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ক্যাপিটল ভবনে হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি হামলা এবং সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান রক্ষায় সব সময় প্রস্তুত।
ক্যাপিটলের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ঐ নারী কর্মকর্তা ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে এই ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, ঐ ঘটনায় সরাসরি সেনাবাহিনীর নাম চলে আসাতেই দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের মুখে ট্রাম্প
ট্রাম্পকে সরাতে ভাইস প্রেসিডেন্টকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে সরাতে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করবেন না। এ অবস্থায় ক্যাপিটলের বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা। গতকাল বুধবার ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার অভিশংসনে ভোট হওয়ার কথা। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট লাগবে। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রায় ২০ জন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানও ট্রাম্পকে অভিশংসনে ভোট দিতে পারেন। তাই প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের অভিশংসন অনেকটাই নিশ্চিত।
এরপর অভিশংসনের আর্টিকেল যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে এবং ক্ষমতা থেকে সরাতে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের সমর্থন লাগবে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কিছু সদস্যকেও ভোট দিতে হবে। এখন পর্যন্ত এই দলের খুব কম সদস্যই প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সিনেটের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেল জানিয়েছেন, অভিশংসন ভোটাভুটিতে তিনি সমর্থন দেবেন। তিনি মনে করেন, অভিশংসনের মাধ্যমেই ট্রাম্পের প্রভাব থেকে রিপাবলিকান পার্টি মুক্তি পেতে পারে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিশংসন প্রক্রিয়াকে হাস্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার আগে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তারা পুরোপুরি ঠিক আছে। আমি মনে করি এটা (অভিশংসনের প্রস্তাব) আমাদের দেশের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে এবং ব্যাপক ক্ষোভের তৈরি করবে। আমি কোনো সহিংসতা চাই না।