‘নারীরা বিয়ের কাজি হতে পারবেন না’—হাইকোর্টের এমন রায়ে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। গতকাল বুধবার পৃথক বিবৃতিতে এসব দল ও সংগঠন নেতারা বলেছেন, দেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার অজুহাত দেখিয়ে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার বা বিয়ের কাজি হতে পারবেন না মর্মে হাইকোর্টের এই রায় নারীর প্রতি অবমাননাকর ও সংবিধান পরিপন্থি। এটি মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের মতো পশ্চাদপদ এক নির্দেশনা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে এই রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্র লৈঙ্গিক কারণে পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট গঠন করে সংবিধানবিরোধী এই রায় পর্যালোচনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান নেতারা। নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখ্্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ পৃথক বিবৃতিতে বলেন, হাইকোর্টের এই রায় নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। উন্নত ও সভ্য দেশগুলোতেও নারীদের কোনো শারীরিক অবস্থাকে তার অযোগ্যতা বলা হয় না। পার্শ্ববর্তী ভারতেও নারীরা বিয়ের কাজি হতে পারেন। এত সব উদাহরণ থাকার পরও বাংলাদেশে নারীর ‘মাসিক’ প্রক্রিয়াকে তার সীমাবদ্ধতা মনে করা ও ধর্মীয়ভাবে অযোগ্যতা মনে করে হাইকোর্টের রায় মধ্যযুগের পশ্চাদপদ ধারণা। অবিলম্বে আদালতের এ রায় ও নির্দেশনা বাতিল করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনসহ সব ধরনের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও আইনগত কাজে নারীর অংশগ্রহণে বিদ্যমান সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
এ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পৃথক আরেক বিবৃতিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির (৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম) পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এ রায় সংবিধানের পরিপন্থি। যখন সরকার নারীর ক্ষমতায়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশ যখন রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হচ্ছে, দেশের নারীরা যখন ইতিবাচক, উত্পাদনমূলক, দায়িত্বশীল, দায়বদ্ধ, সাহসী ভূমিকা পালন করছে—সেই সময় নারীর প্রতি নেতিবাচক এই ধরনের একটি রায় অত্যন্ত দুঃখজনক। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি এই বিধি নিষেধসহ হাইকোর্টের রায় সংবিধানে প্রদত্ত নারীর অংশগ্রহণের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করে।
উল্লেখ্য, সামাজিক প্রতিনিধি কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, স্পেস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, নারী প্রগতি সংঘ, ব্র্যাক, উইমেন ফর উইমেন, কেয়ার বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, জাতীয় শ্রমিক জোট, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, আইইডি, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন, অক্সফাম জিবি, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, এডিডি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, গণসাক্ষরতা অভিযান, নাগরিক উদ্যোগ, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, সারি, বাউশি, পাক্ষিক অনন্যা, শক্তি ফাউন্ডেশন, বিপিডব্লিউ ক্লাব, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, নারী মুক্তি সংসদ, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, আদিবাসী ফোরামসহ ৬৭টি সংগঠন।