চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করিয়ে যেসব পণ্য উত্পাদন করানো হচ্ছে সেসব পণ্য, বিশেষ করে সব ধরনের তুলা ও টম্যাটো আমদানিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের কাজকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত রক্ষা বিভাগ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উত্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জিনজিয়াংয়ের মুসলিম বন্দিদের মাধ্যমে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের ঋণের ফাঁদে আটকে ফেলা হচ্ছে, চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি বলা হয়েছে, চীন সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সেখানে তুলা ও টম্যাটো উত্পাদনে উইঘুরদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তুলা উত্পাদন হয় জিনজিয়াংয়ে। সেগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উত্পাদিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণে টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সচেতন নয় বলেও উদ্বেগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। অবশ্য চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দ্য সান জানিয়েছে, ডমিনিক রাবের ঐ প্রস্তাবে চীনের কথিত উইঘুরদের ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ সংশ্লিষ্ট চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থাকছে না।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মূল্যবোধ এবং স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে যেখানে উদ্বেগ রয়েছে, আমরা সেগুলো উত্থাপন করি এবং চীনকে এর জন্য দায়ী করি। চীনের অন্যতম সমালোচক এবং কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নেতা ডানকান স্মিথ ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, জিনজিয়াংয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে বন্দিশিবির তৈরি করে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। অবশ্য চীনের দাবি, ঐ অঞ্চলে দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হয়েছে।