বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরও দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এর কারণ কী সে ব্যাপারে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো
বয়ঃসন্ধিকালে বিশেষ যত্ন এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চার ঘাটতিতে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। অন্যদিকে উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির অপপ্রভাব, ইন্টারনেটের আগ্রাসন এবং অভিভাবকদের তদারকির গাফিলতির ফলে নিয়ন্ত্রণহীন স্বাধীনতা কিশোর অপরাধের পরিসংখ্যান ক্রমশ বড় করছে। কয়েক লাখ ছিন্নমূল শিশু-কিশোরের পুনর্বাসন সম্ভব না হওয়ায় একশ্রেণির অসাধু ও স্বার্থান্বেষী কথিত রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এদের বড় একটা অংশ অপরাধের অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার এবং এতে অংশগ্রহণ বাড়লেও শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং সুস্থ বিনোদন চর্চার পথ মসৃণ করতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব সুস্পষ্ট। সর্বোপরি, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও নানা মাত্রিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাবেও দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
আবু ফারুক
বনরূপা পাড়া, বান্দরবান।
ঢাকাসহ সারা দেশে দিনদিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উঠতি কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’? স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাড়া-মহল্লা, বাজারের অলিগলিতে এদের আড্ডা এবং বিভিন্ন সময় তারা অপরাধ ঘটিয়ে আলোচিত সমালোচিত হয়। এ সমস্যা নিরসনে দরকার সর্বসম্মতিক্রমে সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে বেশি। কিশোর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পুনর্বাসনেও জোর দিতে হবে।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
কিশোর সন্তানদের সঠিক মানসিক বিকাশের সংকট, কৈশোরকালীন মনোজাগতিক পরিবর্তনে অভিভাবকগণের তরফ থেকে যথাযথ তদারকির অভাব, বঞ্চনা ও উদাসীনতা, প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শচর্চায় ঘাটতি ইত্যাদি বিষয় দেশের ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সসীমার উঠতি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতায় নিমজ্জিত হওয়ার নেপথ্য কারণ। এছাড়াও বিশ্বায়ন ও দ্রুত নগরায়ণ সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব, বন্ধুতা নির্ধারণে ভুল ও ‘জুভেনাইল সাব-কালচার’ দেশের উঠতি কিশোরদের লাগামহীন উদ্ধত আচরণ ও গ্যাংস্টার হয়ে উঠার পিছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে থাকে।
মাতাপিতা সন্তানদের প্রথম ও প্রধানতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠার পিছনে মাতাপিতার নিবিড় তত্ত্বাবধান ও নরজদারি নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চর্চার মাধ্যমে সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান সামাজিক শূন্যতা দূর করে সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ত রাখা আবশ্যক। পাশাপাশি বাড়ন্ত শিশু-কিশোরকে সর্বদা গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
ওয়ারেছ আলী খান
নরসিংদী।
আমাদের দেশে বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের মূল কারণ হলো অভিভাবকের অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতা। ছেলেমেয়েদেরকে হাতে হাতে নামিদামি মোবাইল, খেলনাসহ ইত্যাদি দিতে দিতে এখন তারা বাস্তবে ঐগুলো প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিটি পরিবারের উচিত ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে কাউন্সিলিং করা।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ: (হিফজু)
রাজশাহী
প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় কিশোর অপরাধীদের খবর। এরা মাদক, চাঁদাবাজি, এমনকি হত্যার মতো নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এদেরকে সুপথে আনতে হলে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব অত্যন্ত বেশি।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে হলে সার্বিকভাবে সব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। তার মধ্যে পরিবারের পিতা-মাতা, শিক্ষক অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি-সবার সহযোগিতায় বিপথগামীদের সুপথে ফেরাতে হবে।
রনী
মানিকনগর, ঢাকা
কিশোর গ্যাং বেড়ে যাওয়ার কতোগুলো কারণ আছে। তার মধ্যে অ্যাপভিত্তিক ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীসহ মেলামেশা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধ বাড়ছে। ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে। এই ভয়ংকর অবস্থা বন্ধ করতে হলে সামাজিক প্রচারণা জোরদার ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।
আল মায়ামী
সাভার, ঢাকা।
ভয়ংকর রূপে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ আবশ্যক।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
কিশোর গ্যাংরা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কানে দুল লাগিয়ে দলবেঁধে দাপিয়ে বেড়ায় পাড়া-মহল্লা, অলিগলি। এই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধ করতে হলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আবু জাফর
ফকিরাপুল, ঢাকা
ভিনদেশী সংস্কৃতি আয়ত্তে চলে আসায় কিশোর গ্যাংয়েরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাই এখনই এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মোঃ খায়রুল ইসলা (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
মূলত আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাই আমাদের অনেক কিশোরদের কুপথে নিয়েছে। কিশোররা চারদিকে অন্যায় দেখতে দেখতে অন্যায় কর্ম শিখছে। কোনো কিশোর দুই বেলা খেতে পারে না, স্কুলে যেতে পারে না। অন্যদিকে বাবার অবৈধ টাকা নিয়ে কোনো কিশোর ৫-১০ কোটি টাকার গাড়ি চালায়। এসব বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান, ঢাকা
কিশোর গ্যাং ক্যানসারের মতো সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক নেতারাই নিজেদের কাজে সময়মতো তাদের ব্যবহার করে এবং তাদের আর্থিক সহায়তা করে। নীতিগতভাবে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
মিরপুর, ঢাকা
কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর অপরাধীদের ব্যাপারে বারবার সতর্কমূলক বাণী উচ্চারণ কিরেছেন। দেখা শোনার ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। কিশোরদের সঙ্গে একসময় মাদক এবং জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা শোনা যেত। তাই দুই দুষ্টচক্র তাদের অপরাধের ব্যাপারে উত্সাহিত করছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে—যা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহার, পারিবারিক বন্ধনের অভাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় কিশোররা জড়িয়ে পড়ে সাইবার ক্রাইম কিংবা সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ জগতের খপ্পরে, তাছাড়া কিছু অনলাইন গেম রয়েছে যা তাদেরকে নৃশংস হতে শেখায়, ভুলে যায় বাস্তব জগত্ এবং অপার্থিব জগতের পার্থক্য। এই কিশোরদের সঠিক পথে আনার দায়িত্ব শুধু তাদের পরিবারের ওপর বর্তায় না, এই দায়িত্ব সমগ্র দেশ তথা সমগ্র জাতির।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
ঝিকরগাছা,যশোর
বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট এবং মোবাইলে অপসংস্কৃতির ভিডিও এবং কনটেন্ট দেখে কিশোর ছেলেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে আর বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট
কেন কিশোর গ্রুপ কিংবা কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হচ্ছে এবং কেন আমাদের কিশোরদের মধ্যে ড্রাগ আসক্তি-খুন-ধর্ষণের মতো হিংস্র ও বিকৃত অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, তার কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। এর জন্য দরকার অনেক বড় পরিসরে গবেষণা। আর সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াও আবশ্যক।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
ইদানীং পত্রপত্রিকায় ‘কিশোর গ্যাং’ বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু খবর চোখে পড়ছে আমাদের। সমস্যাটি যে করোনার মতোই মহামারি হতে চলেছে, খবরের সংখ্যা বেড়ে চলা থেকেই সেটি স্পষ্ট। অনেকেই এর শাস্তিস্বরূপ জনসমক্ষে চুল কেটে দেয় অসম্মান-অপমান করে অন্যের সামনে কিশোরদের হীনমান করে। এই সমস্যার সমাধান এভাবে হতে পারে না। নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সচেতনতাই পারে এই সামাজিক সমস্যা সমাধানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া, রংপুর
কিশোর অপরাধ ও গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবারই দায় রয়েছে। অভিভাবকদের অসচেতনতা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চায় জোর না দেওয়া এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি কারণে কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। আবার, কিশোরদের খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ দিন দিন সীমিত হয়ে আসায় ইন্টারনেট ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। আর এসবের নেতিবাচক প্রভাবে কিশোর অপরাধের মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।
মূলত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং অপসংস্কৃতির তুমুল বিস্তারের ফলে দেশ জুড়ে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। তাছাড়া, রাজনৈতিক স্বার্থে কিশোরদের হাতিয়ার বানানোর কারণেও কিশোর অপরাধ লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ও চর্চার ঘাটতির সুযোগে বিদেশি সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশের কারণে সব শ্রেণির শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
সদর, বান্দরবান
রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে কয়েক বছরের মধ্যে মহামারির মতোই কিশোর সন্ত্রাসীপনার অভাবিত বিস্তার। এখনকার শিশু-কিশোররা পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছে না। প্রথমত পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মাদক, অস্ত্রের দাপটসহ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। কিশোরদের কেউ যখন বন্ধুদের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোতে ঢুকছে এবং মাদক ও অস্ত্রের জোগান সহজেই পেয়ে যাচ্ছে তখন তার প্রলুব্ধ হওয়া এবং অপরাধপ্রবণ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
মেরাদিয়া, ঢাকা
সম্প্রতি সারা দেশে গঁজিয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং, করছে অপরাধ, খুন, ধর্ষণ। কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিটি মানুষ যদি সরকার ও প্রশাসনকে নানাবিধভাবে সহযোগিতা করে তাহলে কিশোর গ্যাংদের অস্তিত্ব থাকবে না।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
কিশোরদের সচেতন করার জন্য পরিবারকে দায়িত্ব নেওয়া একান্ত জরুরি। কিশোরদের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা দিয়ে তাদেরকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে।
লায়ন অ্যাড. রবিউল হোসেন রবি
মিরপুর, ঢাকা
গত জানুয়ারির এক তারিখে রাজধানীর মহাখালীতে কিশোর গ্যাং গ্রুপের ছুরির আঘাতে ১৭ বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। আর যেন সামনে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে।
খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান
চাঁনখারপুল, ঢাকা