হাতে হাতে হরেক রকম নাটাই। কিছু ঘুড়ি আকাশে উড়ছে, আবার কিছু মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। আবার সুতা ছেঁড়া কিছু ঘুড়ি উড়ে যাচ্ছে সুনীল আকাশে। এই বুঝি দিগন্ত ছাড়িয়ে যাবে! এমনই বর্ণিল ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার আকাশ। বহু বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উত্সবে মেতেছিল ঢাকাবাসী। এ উপলক্ষ্যে পুরান ঢাকার ছাদ আর মাঠে নানা বয়সি মানুষের ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবারই প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে ৭৫টি ওয়ার্ডে ঘুড়ি উত্সবের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এজন্য কাউন্সিলরদের কাছে প্রায় ১০ হাজার ঘুড়ি সরবরাহ করা হয়। সেসব আগ্রহী লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেকে নিজ উদ্যোগে বাড়ির ছাদ থেকে নানা রঙের ঘুড়ি নিয়ে উত্সবে অংশ নেন। সবমিলিয়ে এটি সর্বজনীন উত্সবে পরিণত হয়।
বিকেলে নগরীর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাসার ছাদে ঘুড়ি উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় তিনি বলেন, আজ ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উত্সবের মাধ্যমে ঢাকার পুরো আকাশকে আমরা করে দিয়েছি রঙিন। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, আমরা আনন্দ করতে জানি, উত্সব করতে জানি, আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে জানি। তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উত্সবকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা যেমন সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবিলা করব, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। পরে ডিএসসিসি মেয়র নগরীর ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের জহির রায়হান নাট্যমঞ্চে এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির চাঁন কমিউনিটি সেন্টারে সাকরাইন উত্সবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও পুরান ঢাকাবাসী সাকরাইন উত্সব আড়ম্বরভাবে উদ্যাপন করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্সবে যোগ হয়েছে নানা অনুষঙ্গ। বেড়েছে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও। সন্ধ্যার পর শুরু হয় আতশবাজি, ফানুস উড়ানো, বড় বড় গ্যাস বেলুন উড়ানো ও আগুন নিয়ে খেলা। আর ডিজের তালে তালে চলতে থাকে গান নাচ। রকমারি আলোকসজ্জায় ঝলমল করছিল চারপাশ।
স্থানীয়রা জানান, পৌষের শেষে জামাইরা শ্বশুরবাড়ি এলে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ঘুড়ি ও নাটাই। সব বাড়ির জামাইরা ঘুড়ি উড়ালে ঘটা করে সেসব দেখতেন সবাই। তবে এমনটা এখন আর হয় না। কিন্তু উত্সবটা এখনো রয়ে গেছে। পুরান ঢাকার অনেক বাসিন্দা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও এই দিনে তারাও পুরান ঢাকায় চলে যান। সবার মধ্যে এক ধরনের উত্সবের আমেজ কাজ করে।