টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আলমগীর হোসেন পাঁচ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। ঐ আবেদনের শুনানির একপর্যায়ে আসামির আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, এই আসামি এত পাওয়ারফুল (ক্ষমতাধর) যে, কোনো কিছুই তাকে খুঁজে পায়নি। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তা স্ত্রী নাহার আহমেদ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইদের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আলমগীর ঐ চার্জশিটভুক্ত আসামিদের একজন। সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আসামি আলমগীর। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ঐ আবেদনের শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে। মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। আসামিকে জামিন দেওয়া হলে তিনি সাক্ষীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাবেন। এছাড়া ৬ মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই মামলার বিচার শেষ হবে।
এই পর্যায়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আসামির জামিন কবে হয়েছে? ডিএজি বলেন, ১০ জানুয়ারি জামিন পেয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের আট বছর পর আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপরই তিনি জামিন পান। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থেকে আত্মসমর্পণের দুই মাসের মধ্যে জামিন পেয়ে গেল!
আসামির আইনজীবী এ এফ এম মেসবাহউদ্দিন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এজাহারে আসামির নাম ছিল না। চার্জশিটে নাম এসেছে। এ পর্যন্ত কোনো সাক্ষী তার সাক্ষ্যে আসামির বিরুদ্ধে কিছু বলে নাই। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি এত পাওয়ারফুল, কোনো কিছুই আপনাকে খুঁজে পেল না!’ এরপরই হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।