টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি ব্লকের রোহিঙ্গাদের ৫৫২টি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সঙ্গে স্থানীয় দুটি ঘর, কমিউনিটি সেন্টারও পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। এমনটি জানিয়েছেন নয়াপাড়া মোচনী রেজিস্ট্রার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি আব্দুল হান্নান।

স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস সকাল নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে কারোর মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে টেকনাফ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের একটি ঘর থেকে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘরগুলো কাঁচা চালা হওয়ায় আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় তার অধিকাংশ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস ইউনিটসহ রোহিঙ্গারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দুর রহমান নামে এক জন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের অন্তত ৫৫২টি রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে যায়। এ সময় ইউএনএইচসিআরের একটি কমিউনিটি সেন্টার এবং পার্শ্ববর্তী দুটি স্থানীয় লোকের বসতঘরও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভাসমান আরো কিছু ঝুপড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বেশ কয়েক জন দাবি করেন।

ক্যাম্প এলাকায় কাজ করা শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, নয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্প অধীনস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্প মুচনী (রেজিস্টার) বিকাশ মোড় ও মাকরাজ মসজিদসংলগ্ন স্থান ব্লক-ই, শেড নম্বর (৯৭৫) ও ঘর নম্বর ১/২ এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা মৃত মো. নুর কবিরের ঘর থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তে ব্লক-ই, ব্লক-বি, ব্লক-ডি ও বি ব্লকের দোকানঘরে ছড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে টেকনাফ ও উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো নিহত না হলেও ৮৬টি শেডের আনুমানিক ৬০০ ঘর পুড়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে আর্মড পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, সিআইসি অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।