নিয়মিত পাঠ:তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ষষ্ঠ শ্রেণি

সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

আইসিটি শিক্ষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

 

 

প্রযুক্তি:প্রযুক্তি হলো কিছু প্রায়োগিক কৌশল যা মানুষ তার প্রতিবেশের উন্নয়ন কার্যে ব্যবহার করে।  যে কোনো যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক উপাদান সম্বন্ধে জ্ঞান এবং তা দক্ষভাবে ব্যবহারের ক্ষমতাকেও প্রযুক্তি বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অথবা দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও তথ্য বিতরণের গুরুত্ব অনেক। আর এই তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য বিতরণের ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যাবলি পরিচালনার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকেই এক কথায়  “প্রযুক্তি” বলা হয়।

কম্পিউটার:সাধারণত কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রিক গণনাকারী যন্ত্র, যা তথ্য গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণ করে সর্বশেষ ফলাফল প্রদর্শন করে। কম্পিউটার একটি আধুনিক অত্যন্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র। অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের সাহায্যে দুই-তিনটির বেশী কাজ করা যায় না। কিন্তু কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক রকম দুরূহ কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। কম্পিউটারের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-

১. এটি লক্ষ লক্ষ তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে,

২. অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও নির্ভুলভাবে নির্দেশিত নির্দেশসমূহ পালন করতে পারে। কম্পিউটার শব্দটি গ্রীক compute শব্দ থেকে এসেছে। compute শব্দের অর্থ হচ্ছে গণনা করা। মূলত কম্পিউটার (computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র।

সফটওয়্যার: সফটওয়্যার হলো নির্দিষ্ট কিছু কমান্ড বা নির্দেশনার সমষ্টি যা একজন প্রোগ্রামার নির্দিষ্ট নিয়ম ও ভাষা ব্যবহার করে তৈরি করে থাকে। কম্পিউটার সফটওয়্যার বলতে একগুচ্ছ কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কর্মপদ্ধতি ও ব্যবহার বিধিকে বোঝায়, যার সাহায্যে কম্পিউটারে কোনো নির্দিষ্ট প্রকারের কাজ সম্পাদন করা যায়। সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার সিস্টেম সফটওয়্যার ও এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। কম্পিউটার ব্যবস্থা ও তার বিভিন্ন উপকরণকে অর্থাত্ ডিস্ক ড্রাইভ, মাইক্রো প্রসেসর, স্মৃতি বা মেমোরিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য  যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। যেমন, যে কোনো অপারেটিং সিস্টেম (ডস, উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ৭, লিনাক্স)। কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের সফটওয়্যার কোনো কম্পিউটারকে একটি কাজের যন্ত্রে পরিণত করে। যেমন ওয়ার্ড, এক্সেল, অ্যাক্সেস ইত্যাদি।

অপটিক্যাল ফাইবার:অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fiber) এক ধরনের পাতলা, স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ, সাধারণত কাচ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহূত হয়। ফাইবার অপটিকস ফলিতবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সেই শাখা যা এই অপটিক্যাল ফাইবার বিষয়ে আলোচনা করে। অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে লম্বা দূরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য পরিবহন করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবারের আরো অনেক সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এই ব্যবস্থায় তথ্য পরিবহনে তথ্য ক্ষয় কম হয়, তড়িত্-চুম্বকীয় প্রভাব থেকে মুক্ত ইত্যাদি।

উপগ্রহ: উপগ্রহ হলো মহাকাশে উেক্ষপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত স্যাটেলাইট । স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার খবর আমরা নিমিষেই পেয়ে যাই।