মসলিন পুনরুদ্ধারে আমাদের প্রতিভাবানদের কৃতিত্বের সংবাদে খুব ভালো লাগছে। বাংলার হারানো মসলিন বাংলা হারাতে দেবে না বলে গর্ববোধ হচ্ছে। এবার সময় এসেছে পাটের দিকে নজর দেওয়ার। সঙ্গে আমাদের জনসাধারণেরও সাহায্য দরকার।
বছর দু-এক আগে পাটের তৈরি শীতবস্ত্রের চমত্কার একটা বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। তবে স্থানীয় মার্কেটে খোঁজ করে পাইনি। আসলে ক্রেতার সংখ্যা নগণ্য বলে দোকানিরা উত্সাহ পান না। সেদিন দেখলাম ভারতের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটা পোশাক-বিধি করা হলো। আসলে আমাদের দেশেও এমন কিছু করলে; অন্তত সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বিদেশি সোয়েটার-জ্যাকেটের পরিবর্তে পাটের শীতবস্ত্র পড়া বাধ্যতামূলক করা হলে সারা দেশে পাটশিল্পের অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটবে।
প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ আমরা পালন করতে গিয়ে সাদা-লাল রঙের জামা পরি, পান্তা-ইলিশ খাই। এক্ষেত্রে বৈশাখীমেলায় পাটের তৈরি সামগ্রীর বিস্তার ঘটানো যেতে পারে।
ইদানীং খুঁজলে পাটের তৈরি বিভিন্ন কারুশিল্প দেখা যায়। ছোট ছোট রিকশা, নৌকা, কলমদানি, ফুলদানি, পাটের দৃষ্টিনন্দন বুক কভার, পুতুল তো আছেই, সঙ্গে আরো দারুণ সৃজনশীল জিনিস। তবে এগুলো খুব একটা দেখা যায় না। আমরা এসবের বিস্তার করতে পারি। বিশেষ করে আমরা শিক্ষার্থীরা যদি এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাই। আমাদের দেখে অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষতরা অনুপ্রেরণা পাবে। চাহিদা বাড়লে উত্পাদন বাড়বে। এভাবে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।
আমরা কৃষক, বেকারদের সাহায্য করতে পারি, যাতে তারা এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও পাটশিল্প বিষয়ক উদ্যোগ নিতে পারে। আমরা একটু মনোযোগী হয়ে পাটশিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে পারি। আসলে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মনোযোগের অভাবে একটা দেশজশিল্পের এভাবে অপমৃত্যু আমরা ঘটতে দিতে পারি না।
ফজিলাত উন নেছা