দায়িত্ব গ্রহণের আগেই করোনা মহামারির কারণে দুর্বল হওয়া অর্থনীতির জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি রিলিফ প্যাকেজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কংগ্রেসে এ সংক্রান্ত বিল পাশ হলে মার্কিন পরিবারগুলো এককালীন ১ হাজার ৪০০ ডলার করে পাবেন। এ খাতে বরাদ্দ হবে ১ লাখ কোটি ডলার। এছাড়া প্রস্তাবে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ৪১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া হবে ৪৪ হাজার কোটি ডলার। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন প্রশাসনের কাছে এই পরিকল্পনা অগ্রাধিকার পাবে।
গত নির্বাচনের আগে প্রচারণায় বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে অধিক কার্যকরভাবে করোনা মোকাবিলা করবেন। বাইডেনের পরিকল্পনায় করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে আরো ২ হাজার কোটি ডলার যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতা বাড়াতে ৫ হাজার কোটি এবং বসন্তে বেশির ভাগ স্কুল খুলতে সহায়তা বাবদ ১৩ হাজার কোটি ডলার রাখা হয়েছে। বাইডেনের প্রস্তাব পাশ হলে মার্কিনিরা এককালীন ১ হাজার ৪০০ ডলার করে পাবেন; যা ট্রাম্প প্রশাসনের গত মাসে দেওয়া ৬০০ ডলারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২ হাজার ডলারে দাঁড়াবে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় শপথ অনুষ্ঠানের মহড়া স্থগিত
গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থক ও কট্টর ডানপন্থিদের সহিংসতার পর সারা দেশে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্প সমর্থকরা ২০ জানুয়ারির আগে দেশ জুড়ে সশস্ত্র বিক্ষোভ করতে পারে। এই সতর্কতার পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ সর্বত্র উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা নিশ্চিতে পেন্টাগন ১৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সেনা মোতায়েন করেছে।
তার পরও নিরাপত্তা নিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ক্যাপিটলে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মহড়া স্থগিত করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার শপথ অনুষ্ঠানের মহড়ার পর বাইডেনের সমর্থকদের ট্রেনযোগে উইলমিংটন থেকে ওয়াশিংটন যাওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নিরাপদ শপথ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ও ঐহিত্য মেনে সব কিছু হবে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকবেন।