ইত্তেফাক ডেস্ক
হঠাত্ করেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে! আর এ বিষয়টিতে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে ভারত। কারণ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ-ঢাকা উষ্ণ সম্পর্কের বড় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে নয়াদিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক প্রণয় শর্মার লেখা এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।
ঐ নিবন্ধে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও নৃশংসতার জন্য ইসলামাবাদকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনা ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের তৈরি করেছে। কারণ ভারতের দুই প্রতিবেশী দীর্ঘ দিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক মসৃণ করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়টি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত বাংলাদেশকে মিত্র আর পাকিস্তানকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। হিমালয় অঞ্চলে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতেও ভারত সচেষ্ট।
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে চীন। বেইজিং চাইছে, বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থি ‘উপাদানগুলো’ সক্রিয় করতে যাতে তারা এগুলো ভারতের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল। তিনি বলেন, চীন চাইছে, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে তাদের নিজস্ব সমর্থক ঘাঁটি তৈরি করতে এবং নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০১৯ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই দুই দেশের বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদার হলো চীন। ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গত সপ্তাহে বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ করার আভাস রয়েছে। গত বছর করোনা মহামারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনারকে সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন।