টিএসসির জনপরিসর সংকুচিত করলে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ নষ্ট হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় উন্মুক্ত আলোচনা করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিভিন্ন জনপরিসরগুলোকে সংকুুুচিত করা হচ্ছে। মতবিনিময় ও চর্চার জায়গাগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন টিএসসির জনপরিসরকে সংকুচিত করে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করতে চায়। বহুতল ভবন তৈরির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক আদলে টিএসসিকে গড়ে তুলতে চায়। ছাত্র-শিক্ষকের স্বার্থে তা কতটুকু ব্যবহার হবে এ নিয়ে তারা সন্দিহান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ইতিহাস ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চাই না’—শিরোনামে এ আলোচনাসভায় বক্তারা আরো বলেন, টিএসসি ভেঙে ফেলে সেখানে ২০ তলা ‘আধুনিক ভবন’ তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও এর নকশা কেমন হবে সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ কোনো ধারণা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনসহ বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক আচরণেরই পরিচায়ক। এ সম্পর্কে স্থপতিবিদদের অনেকেই গণমাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য— টিএসসির স্থাপত্যরীতি ও গঠনশৈলী অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। ফলে ২০তলা ভবন নির্মাণ নিঃসন্দেহে এর মূল অবকাঠামো নষ্ট ও জনপরিসরকে ধ্বংস করবে। এর মূল কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সর্বোচ্চ চারতলা ভবন এখানে নির্মাণ করা যেতে পারে।

সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার, শিশু ও শিক্ষা রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল রাহা, সাবেক ছাত্রনেতা ও গল্পকার মাহমুদুল হক আরিফ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্টস ডেভেলপমেন্টের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল রাজি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ঢাকা মহানগর ইনচার্জ সুস্মিতা রায় সুপ্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি রায় এবং ডাকসু আন্দোলনকারী ওয়ালিদ আশরাফ।

আলোচনায় উপস্থিত না থাকলেও তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুত্ফা, প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি রানি দত্ত, সংগীতের বীথি ঘোষ, শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের নূর বাহাদুর ও মওদুদ মিষ্ট।