নিয়মিত পাঠ:তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ষষ্ঠ শ্রেণি

সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

আইসিটি শিক্ষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

 

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,

পূর্বের পাঠে আমরা প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ অধ্যায়ন শেষ করেছি। আজ আমরা প্রথম অধ্যায়ের তৃতীয় পাঠ উপাত্ত ও তথ্য বিষয়ে আলোচনা করব। পাঠের শুরুতেই রয়েছে কিছু এলোমেলো নম্বর। অবাক হওয়ার মতোই নম্বর সমূহ দেয়া, নেই কোন সংকেত বা বোঝার জন্য কোন ইঙ্গিত। একটু পরেই আবার দেখানো য়েছে যে, এলোমেলো এই নম্বরসমূহ হলো ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরতএকটি মেয়ের পরীক্ষা পাওয়া নম্বর। এরপর দেয়া হয়েছে তথ্য ও উপাত্তের সংজ্ঞা (আমরা নতুন শিখলাম পর্বে সংজ্ঞাসমূহ দেখবো)। পরের অনুচ্ছেদে রয়েছে কিছু এলোমেলো শব্দ হ্যাঁ, না এবং নম্বর। অতঃপর ৭ পৃষ্ঠায় এলোমেলো শব্দ হ্যাঁ, না এবং নম্বরসমূহকে বোধগম্য করার জন্য একটি ছকের মধ্যে দেয়া হয়েছে। ছকের মধ্যে এলোমেলো শব্দ হ্যাঁ, না এবং নম্বরসমূহকে প্রেক্ষাপট অনুসারে সাজানোর জন্য আমরা বোঝতে পেরেছি হ্যাঁ, না এবং নম্বরসমূহ কিসের। এসকল বিষয়সমূহ তৃতীয় পাঠে আলোচনা করা হয়েছে। তবে পাঠে আমরা কিছু নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হব, সেগুলো হলো- তথ্য, উপাত্ত, জ্ঞান। এখন উল্লিখিত শব্দসমূহের আলোচনা করব।

তথ্য: সংগৃহীত ডেটা বা উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর প্রয়োজন মতো সাজানো বা অর্থপূর্ণ অবস্থাকে তথ্য বা ইনফরমেশন বলা হয়। বিভিন্ন উপাত্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিচালন এবং সংঘবদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলকে তথ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় যা কোনো মানুষের মস্তিষ্কে প্রেরণ করা হলে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। একটি ধারণা হিসাবে নিলে তথ্য শব্দটির প্রচুর অর্থ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এবং প্রযুক্তি খাতে দৃষ্ট হয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে তথ্যের ধারণাটি আরো বেশ কয়েকটি ধারণার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত:বাঁধা, যোগাযোগ, কট্রোল সিস্টেম, উপাত্ত, গড়ন, নির্দেশনা, জ্ঞান,  তত্ত্ব, উদ্দীপনা, গঠন, ধারণা এবং জ্ঞান উপস্থাপন। সাধারণভাবে, কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচী/পরিকল্পনা প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপাদান হিসাবে যা ব্যবহূত হয় তাকেই তথ্য বলা হয়ে থাকে। তবে ‘তথ্য’ হতে হলে এটিকে অবশ্যই ঐ নির্দিষ্ট কাজের জন্য অর্থবোধক, নির্ভুল, প্রাসঙ্গিক এবং পুর্ণাঙ্গ হতে হবে।

উপাত্ত:উপাত্ত বলতে এমন কিছু তথ্যকে বোঝায় যা নির্দিষ্ট কোনো চলকের বা এক সেট চলকের গুণগত ও পরিমাণগত ধর্মাবলিকে প্রকাশ করে। বেশির ভাগ সময় কোনো পরিমাপ প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ এসব উপাত্ত সংগৃহীত হয়। উপাত্তকে কানেকটিভিটি গ্রাফ, লেখচিত্র বা চলকসমূহের মান তালিকারূপে উপস্থাপন করা হতে পারে। উপাত্তকে অনেক সময় সবচেয়ে নিচের স্তরের বিমূর্ত ধারণা হিসাবে দেখা হয়, যেখান থেকে তথ্য বা জ্ঞান আহরণ করা হয়ে থাকে।  ‘উপাত্ত’ হচ্ছে তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক; যার অর্থ রয়েছে, কিন্তু এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। কতিপয় ‘উপাত্ত’ একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘তথ্য’ তৈরি করে।

জ্ঞান:‘জ্ঞান’ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ “জানা”। প্রসঙ্গভেদে এই শব্দের একাধিক অর্থ করা হয় এবং প্রাচ্যের ধর্মগুলির একাধিক শাখায় এই শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মে জ্ঞানের ধারণাটি একটি বৌদ্ধিক ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।