বাংলা বানানের নিয়মকানুন

সবুজ হাসান, শিক্ষক

গতকালের পর

৬. বহুবচনের ক্ষেত্রে জটিলতা

নিচের তিনটি ক্ষেত্রে বহুবচনের প্রয়োগে সতর্ক থাকতে হবে :

ক. বহুবচনের দ্বিত্ব প্রয়োগ : ‘কতিপয় লোকেরা সেখানে হাঙ্গামা বাধায় বহুবচনের এমন দ্বিত্ব প্রয়োগ করা যাবে না। লিখতে হবে ’কতিপয় লোক’ নয়তো ‘লোকেরা’।

খ. ‘কে’ বিভক্তি : বহুবচনের ক্ষেত্রে ‘কে’ বিভক্তি ব্যবহার করা যাবে না। লেখা যাবে না ’শ্রোতাদেরকে’; লিখতে হবে ’শ্রোতাদের’।

গ. ইংরেজিতে বহুবচনে যেমন ‘ং’ বা ‘বং’ শব্দ থেকে আলাদা করে লেখা যায় না, তেমনিভাবে বাংলাতেও ‘সমূহ’, ‘গুলো, ‘বৃন্দ’ প্রভৃতি সবসময় মূল শব্দের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে, আলাদাভাবে লেখা যাবে না। যেমন : বিষয়সমূহ, আবেদনগুলো।

৭. কয়েকটি নিরেট শব্দ

সমাসবদ্ধ শব্দমাত্রই নিরেট (ফাঁকহীন) হবে। যেমন : স্বাধীনতাযুদ্ধ, আগাগোড়া। এরকম শব্দের সংখ্যা অগণিত। যে-সব শব্দ বা শব্দাংশ যোগে গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দ নিরেট হবে তার মধ্যে বহুল-ব্যবহূত কয়েকটি হলো ‘পূর্বক’, ‘করণ’, ‘ভিত্তিক’, ‘কবলিত’, ‘বিশিষ্ট’, ‘ভুক্ত’, ‘বশত’, ‘সংক্রান্ত’, ‘সংখ্যক’।

কয়েকটি নিরেট শব্দ

৮. ‘এর’-এর ব্যবহার

-র, -এর, - এগুলো সম্বন্ধ পদ।। অফিসের চিঠিপত্রে এগুলোর ব্যবহার যেমন বেশি, তেমনি ভুলও কম হয় না। এগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে। -র, -এর ও --এর অশুদ্ধ ও শুদ্ধ প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ :

অশুদ্ধ : উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো সভাটি।

শুদ্ধ : উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো সভাটি।

অশুদ্ধ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৬তম জন্মদিবস পালিত হলো।

শুদ্ধ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিবস পালিত হলো।

অশুদ্ধ : এই বই এর গল্পগুলো মোটেও মজার নয়।

শুদ্ধ : এই বইয়ের গল্পগুলো মোটেও মজার নয়।

কিন্তু, অর্থের গোলযোগ এড়ানোর জন্য কোনো শব্দের পরে আলাদাভাবে ‘এর’ যুক্ত করার প্রয়োজন হলে সেই ‘এর’-এর আগে অবশ্যই একটি হাইফেন বসাতে হবে। যেমন : উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গলাচিপা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো সভাটি।

৯. অতত্সম শব্দের বানান

সব অতত্সম শব্দে (অর্থাত্ সংস্কৃত ভাষা থেকে যে-সব শব্দ থেকে আসে নি) ই এবং উ এবং এদের -কার চিহ্ন ( া ) ব্যবহূত হবে। যেমন : আপিল, জানুয়ারি। অতত্সম শব্দে ‘ণ’ ও ‘ষ’ ব্যবহার করা হবে না। যেমন :স্টেশন, ট্রেন।