ফিরে দেখা

নাড়া ভাঁটুই কই!

 

আমার শৈশবের দিনগুলি কেটেছে দক্ষিণ বাংলার বরিশালের মহকুমা শহর পিরোজপুরের রায় বাহাদুর সড়কে—এখনো মনে আছে, আমাদের বাসার দক্ষিণে বাগানের পরেই ছিল জমি—আমরা জমিকে বলতাম ‘কোলা’। সেখানে ধান তোলার পরে নোনামাটির সোঁদা গন্ধ পেতাম। তখন মফস্সলে পৌষ-মাঘে তীক্ষ শীত ছিল। ধানকাটা শূন্য জমি বা মাঠ হাহাকারে ভরা। ১৯৫৭-৫৯ সালে আমরা ছেলেছোকরারা তখন সেই জমি বা মাঠের রাজা। আধশুকনো কলমির ফল তোলা আর বিলখালে কচুরিপানা কাস্তে দিয়ে কেটে তার মধ্যে জাল ঢুকিয়ে কৈ, ল্যাঠা, শিং, মাগুর, টেংরা ইত্যাদি জাওলা মাছ ধরা ছিল আমাদের নেশা। আর ছিল শুকনো নাড়ার গোড়ায় নাড়া ভাঁটুইয়ের বাসা খোঁজা। দৈবাত্ মিলেও যেত। বাসা বলতে মাটিতে গর্ত করে হালকা খড় বিছিয়ে রাখা। প্রতি বাসায় দুটি করে ডিম দেখেছি। বাসা খুঁজে পেলে আমরা চিহ্নিত করে রাখতাম। প্রতিদিন একবার করে দেখতাম কবে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হচ্ছে।

নাড়া ভাঁটুই খুব ছোট্ট পাখি—ধূসর রঙের। ধানকাটা শুকনো জমিতে বাসা বাঁধত।

নাড়া ভাঁটুই কই! সেই পথে গেলে আজ আর দেখি না জমি বা মাঠ—সেখানে শুধু বাড়িঘর। চোখে পড়ে না কোনো পাখিটাকি। এজন্য দায়ী কে?

লিয়াকত হোসেন খোকন