আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সেসব নিয়েই আমাদের পরিবেশ। প্রাকৃতিক এবং মনুষ্য তৈরি—এ দুয়ের সমন্বয়ে সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই ভূ-প্রকৃতি। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম একটি উপাদান পক্ষিকুল। যা হাজার বছর ধরে প্রকৃতির সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে আছে। তার মধ্যে আমাদের সবার চিরচেনা একটি পাখি শকুন, যা বিভিন্ন উপায়ে প্রকৃতির ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। একসময় আমাদের চারপাশে যত মৃত পশুপাখির দেহ আমরা ফেলে রাখতাম তা খেয়ে বেঁচে থাকত এই পাখিগুলো। এমনকি একটা পশু যদি কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, সেই পশুর মাংস খেয়ে হজম করার ক্ষমতা শকুনের আছে। যা অন্য কোনো প্রাণীর নেই। এভাবেই শকুনরা আমাদের বড় রোগ আক্রমণ থেকে রক্ষা করে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু আজ তারা কোথায়? ১৯৮০-র দশকে আমাদের দেশে শকুনের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০০, আজ তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০। তাদের বিলুপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ তাদের ব্যবহার উপযোগী পরিবেশ আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। যার ফলে আজ অনেক ভাইরাস প্রাণী থেকে মনুষ্যকুলে মহামারি আকারে প্রকাশ পাচ্ছে। তবু চলুন আমরা নিজেরা সচেতন হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরকে সচেতন করি। তৈরি করি শকুনদের বাসযোগ্য পরিবেশ। এটা আজ সময়ের দাবি।
লুত্ফর রহমান লাভলু
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ